kalerkantho


‘অলরাউন্ডার’ শক্তি রানী

পুরো নাম শক্তি রানী মণ্ডল। ডাক নাম পাথর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স করেছেন। বর্তমানে ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন (বিপিএড) করছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন : মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘অলরাউন্ডার’

শক্তি রানী

নেত্রকোনা জেলার মহোনগঞ্জ উপজেলায় শক্তি রাণী মণ্ডল জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সুনীল মণ্ডল পেশায় কৃষক। মা নিভা রানী মণ্ডল গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে শক্তি রানী সবার বড়। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তাঁর। জীবনে চলার পথে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে মা বাবার স্বপ্নের পথ ধরে হাঁটছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

শক্তি রানী নিজ উপজেলার শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি এবং নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ২০১১ সালে এইচএসসি পাস করেন। খেলাধুলা স্কুলজীবন থেকেই শুরু করেন। কলেজে এসে আন্তঃকলেজ বিভাগ ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় অ্যাথলেট, বর্শা নিক্ষেপ, চাকতি ও এলাকার ভলিবল দলসহ বিভিন্ন খেলায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

২০১১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই হ্যাণ্ডবল, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন ও অ্যাথলেট খেলায় অনেক জোর দেন। পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ভলিবল টিমের একজন নিয়মিত সদস্য বনে যান তিনি। গত বছর মেয়েদের খালেদা জিয়া হলের ব্যাডমিন্টনে একক চ্যাম্পিয়ন ও ক্যারামে দ্বৈত রানারআপ হন। এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের তিনটি হলের বউচি খেলায় তিনবারই খালেদা জিয়া হলের চ্যাম্পিয়ান দলের সদস্য তিনি।

কলেজে পড়ার সময় ‘দুর্বার গোষ্ঠী’ নামের একটি আঞ্চলিক স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনে কাজ করেছেন। তখন থেকে তিনি রোভার স্কাউট করতেন। বর্তমানেও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রেভার মেট এবং মেয়েদের স্কাউট দলের অধিনায়ক। বিএনসিসি বিমান শাখায় ছিলেন। ক্যাডেট সার্জেন্ট র‍্যাঙ্ক পেয়েছেন। বিভিন্ন মেয়াদের সাতটি ক্যাম্প করেছেন। এখানেও শক্তি খেলাধুলায় সত্রিয় ছিলেন। হাতিয়ে নিয়েছেন চট্টগ্রামের ২নং স্কোয়াড্রন বেস্ট ক্যাডেট ২০১৬ এর স্বীকৃতি।

নিজ জেলার ছয় শতাধিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘নেত্রকোনা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’ এর সভাপতি হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এটি একমাত্র জেলা সংগঠন, যেখানে প্রথম নির্বাচিত মেয়ে সভাপতি শক্তি রাণী মণ্ডল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অনার্য সংঘ’ নামে আদিবাসীদের এই সংগঠনে বক্তা হিসেবে আছেন। সামনে একুশে বইমেলায় দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে বাঙালি রক্তধারার উদ্ভব, বিকাশ ও ক্ষুদ্র আদি নৃগোষ্ঠী। ওই বইয়ে ‘অনার্য সংর্ঘ’ নিয়ে তাঁর একটি প্রবন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলোয়াড় সমিতির সহ-অর্থ সম্পাদক ও ফুটবল দলের রেফারি। সঙ্গে চট্টগ্রাম ফুটবল রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। প্রথম মেয়েদের মধ্যে ভলিবল রেফারি হয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফার্স্ব ডিভিশন, প্রিমিয়ার লীগ ও বাংলাদেশ অলিম্পিক গেমসের পক্ষে যুবদল গেমস তিনি পরিচালনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জগতে বিচরণ শুরু হয় প্রথম বর্ষ থেকেই। চারণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিচালনায় হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ‘একাত্তর’ মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে চবির সাংস্কৃতিক সংগঠন অঙ্গনে এসে দীর্ঘদিন নাচ করেছেন। পাশাপাশি উপ-প্রচার, অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে অঙ্গনের কার্যকরী সদস্য। কিছুদিন আগে এশিয়ান টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নাচ করেছেন।

সামনের পথচলার নিয়ে জানতে চাইলে শক্তি রানী মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খেলাধুলার সাথে আজীবন থাকতে চাই। পেশা হিসেবে বিসিএস দিয়ে আনসার অথবা পুলিশে যেতে প্রাণপণ চেষ্টা করবেন। দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। মা-বাবাকে সব সময় হাসি-খুশি রাখতে চাই। মা-বাবাই প্রিয় আদর্শ। কারণ তাঁদের মুখের হাসির চেয়ে বেশি পৃথিবীতে অন্য

কোন সৌন্দর্য আমার কাছে নেই।’

‘ভবিষ্যতে যখন স্বাবলম্বী হব একটি এতিমখানা দেওয়ার

 

ইচ্ছা আছে এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে সর্বদা কাজ করে যেতে চাই।’ যোগ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের সভাপতি এ এইচ এম রাকিবুল মাওলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শক্তি রানী প্রথম দিকে ভলিবলে তেমন ভালো করতে না পারলেও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বর্তমানে ভলিবলে একটা পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছে। অ্যাথলেটেও বরাবরই ভালো করে আসছে। তার মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি আছে। যার উদাহরণ হল তার নিজ জেলা নেত্রকোনা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রথম সভাপতি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শক্তি রাণীর পদচারণা সবসময় লক্ষ করা যায়। সব মিলিয়ে সত্যিকার অর্থেই সে আধুনিকমনস্ক একজন মেয়ে। কারণ শক্তি রানী মণ্ডল চ্যালেঞ্জিং নিয়ে সবসময় কাজ করতে ভালোবাসে।’

 

 



মন্তব্য