kalerkantho


হাফেজ বজলুর রহমান সড়কে গর্ত আর গর্ত

জাহেদুল আলম, রাউজান   

৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



হাফেজ বজলুর রহমান সড়কে গর্ত আর গর্ত

কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও ছোট ছোট, অগণিত খানাখন্দক। বৃষ্টি পড়লেই গর্তে জমে পানি।

আটকে পড়ে গাড়ি। শুষ্ক সময়ও রক্ষা নেই। ছোট, বড়, মাঝারি গর্ত-খানাখন্দের কারণে ধীরে চালাতে হয় গাড়ি। চলতে গিয়ে কখনো বাম কখনো ডানপাশে হেলে পড়ে গাড়ি। ২০-২৫ মিনিটের পথ যাত্রীদের যেতে লাগছে কমপক্ষে একঘন্টা।

এ চিত্র এখন রাউজানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের।

প্রতিদিন সড়কটিতে যাত্রীরা যাতায়াত করছে নানা ঝুঁকির মধ্যে। রোগীতো নয়-ই সাধারণ মানুষও এ সড়কপথে যাতায়াত করতে ভয় পায় এখন। তবু জীবন থেমে থাকে না।

অসহনীয় কষ্টের মধ্যে এ পথ দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে রাউজান সদর থেকে উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তে যোগাযোগ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। চলতে গিয়ে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা, বিকল হচ্ছে গাড়ি। জনপথ বিভাগের আওতাধীন হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের এ অবস্থা সারা বছরই লেগে থাকে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। মাঝে মধ্যে নামেমাত্র সংস্কার হিসেবে বিটুমিন দেওয়া হলেও তা কয়েকদিনের মধ্যে ওঠে যায়।

যাত্রীদের কাছে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণাংশের চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ সড়কটিতে শত শত খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির পাহাড়তলী চৌমুহনী থেকে রাউজান সদরের জলিলনগর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার এলাকার ২০-২৫টি স্থানে গর্ত কয়েকস্থানে ধস ও কার্পেটিং ওঠে গিয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে বেহাল দশা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক দিয়ে চলাচল করে ট্রাক, হাইস, মাইক্রো, কার, সিএনজি অটোরিকশাসহ অসংখ্য গণপরিবহণ। সড়কের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার থেকে উপজেলা সদরের জলিলনগর চৌমুহনী পর্যন্ত ২০-২৫টি স্থানে ধসে গেছে গেল বর্ষার বন্যার স্রোতে। এছাড়া পাঁচ শতাধিক বড় ছোট গর্ত হয়ে অনেক স্থানে জমে আছে পানি। অনেক স্থানে মনে হচ্ছে মিনি পুকুর। গর্তে পানি জমে ও খানাখন্দে আটকে যাচ্ছে গাড়ির চাকা। বিগত দুইবছর ধরে সংস্কারের অভাবে চরম ভোগান্তিতে যাত্রী সাধারণ।

দেখা যায়, সড়কটির পাহাড়তলী বাজার হয়ে ঊনসত্তর পাড়ার কাছাকাছি অংশ, হাজীপাড়া, বণিক পাড়া, ঊনসত্তর পাড়া ক্লাব, লস্কর উজির দিঘি, শহিদ উল্লাহ কাজী পাড়া, ঈশান ভট্টেরহাট, সোমবাইজ্জ্যাহাটের দুটি অংশ, আব্দুল কুদ্দুস মোমেরিয়াল হাসপাতাল, হযরত চাঁদ শাহের মাজার এলাকা, মুহা্ম্মদপুর, হাজীপাড়া মাজার এলাকা, ঢেউয়া হাজীপাড়া এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে পাঁচ শতাধিক গর্তের। সড়কপথে নবনির্মিত ৪টি ব্রিজের গোড়ার সংযোগস্থলে ঠিকভাবে সংস্কার না করায় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচল অব্যাহত আছে। এতে অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনাও।

নিয়মিত চলাচলকারীরা জানান, উপজেলার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে উপজেলার দক্ষিণাংশের চার ইউনিয়ন বাগোয়ান, পাহাড়তলী, কদলপুর ও রাউজান সদর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে।

মাকসুদুল আলম নামের একজন বাসিন্দা বলেন, ‘সড়কের পাহাড়তলী বাজার থেকে জলিল নগর পর্যন্ত অসংখ্য স্থানে গর্ত, সড়ক কিনারায় ধস, কার্পেটিং ওঠে গিয়ে করুণ অবস্থা। যান চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকির মাঝে। ২০-২৫ মিনিটের পথটি পাড়ি দিতে সময় লাগছে একঘণ্টারও বেশি। ’

এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানান, কদলপুর ইউনিয়নের চারটি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। কালভার্টগুলোর সংযোগস্থলে পিচ ঢালাই না করায় এখানে খুব ঝুঁকির মধ্যে গাড়ি চলাচল করছে। বাকী আরো দুই স্থানে স্থানীয় জনগণ পানি নিষ্কাশনের পথ অবরুদ্ধ করায় পানি জমে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের পাঁচটি অংশে সংস্কারের ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। এদিকে গত কিছুদিন ধরে সড়কটির জলিলনগর এলাকা থেকে সংস্কারের নামে কিছু কিছু স্থানে সামান্য বিটুমিন দেওয়া হচ্ছে। তবে এগুলো আবার ওঠে যাচ্ছে। ’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রত্যকবারই এ সড়কে এ রকম নামমাত্র সংস্কার কাজ হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, ‘সড়কটির কিছু কিছু জায়গায় সংস্কার করা হয়েছে। বাকী যে অংশ খারাপ সেগুলোর সংস্কার কাজ আগামী একমাসের মধ্যে শুরু হবে। যার টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। ’

সড়ক একবার সংস্কার করার পর দুই বছরের মধ্যে নতুন করে সংস্কার কাজ করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।


মন্তব্য