kalerkantho


উখিয়ায় নির্বিচারে বক শিকার

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উখিয়ায় নির্বিচারে বক শিকার

... প্রতিদিন কয়েক শ বক শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে। পরে সেগুলো প্রতিটি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয় স্থানীয় বাজারে ...

 

উখিয়ার ঐতিহ্যবাহী মাছকারিয়ার বিলে (ধানিজমি) ফাঁদ পেতে বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করা হচ্ছে।

এসব পাখি প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে উখিয়ার বিভিন্ন হাট-বাজারে। প্রতিদিন অবাধে পাখি শিকার করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় শিকারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। শিকারির ফাঁদে আটকে আছে সাদা বক। ফলে পরিবেশ সঙ্কটাপন্নের মুখে পড়েছে।

সরজমিন দেখা যায়, উখিয়ার মাছকারিয়া বিলের বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ জাল ঘাসের ওপর ফাঁদ পেতে রেখেছে শিকারিরা। এসব জালের কাছাকাছি জঙ্গলে ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে সাদা বক নিধন করা হচ্ছে। প্রতিটি ঝুপড়ি ঘরের ২-৩ গজের মাথায় ঘাসের ওপর পাতা জালের দুপাশে বাঁশ বেঁধে বাঁশের সঙ্গে রশি বেঁধে রাখা হয়েছে। জালের আশপাশে দূর-দূরান্ত থেকে উড়ে আসা বকদের শিকার করতে উন্মুক্ত জলাশয় ও বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গৃহপালিত বককে। গৃহপালিত বকদের উন্মুক্ত স্থানে দেখে সারি সারি বক ও অন্যান্য পাখির ঝাঁক নেমে আসে তাদের কাছে।

উড়ন্ত পাখির ঝাঁক জালে বসার সঙ্গে সঙ্গে ঝুপড়ি ঘরে থাকা শিকারি দুর্বৃত্তরা রশিতে টান মারে। এ সময় জালের দুপাশে থাকা বাঁশ দুটো ঘুরে একটি আরেকটির ওপর পড়ে। এতেই জালের ওপর বসা বকসহ অন্য পাখিরা সহজেই শিকারি দুর্বৃত্তদের জালে আটকা পড়ে। এভাবে বছরের পর বছর পাখি শিকারিরা দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখিসহ অতিথি পাখি শিকার করে উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছে।

গ্রামবাসী মো. হোছন, খালেদা বেগম, গুরা মিয়াসহ অনেকেই বলেন, প্রতিদিন কয়েক শ বক পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে। সেগুলো প্রতিটি ৫৫-৬০ টাকা বিক্রি হয় বাজারে। সাদা বক খুবই স্পর্শকাতর ও লজ্জাবতি। এরা রোদের গরম সহ্য করতে পারে না। তাই খুব ভোর (সূর্যোদয়ের আগে) সময় খাদ্য অন্বেষণে বেরিয়ে পড়ে। সূর্য ওঠার আগেই এরা চারণ ক্ষেত্রের পাশে ঝোপ জঙ্গলে, ঘাসের আড়ালে ঘাপটি মেরে থাকে। দিনে বকদের তেমন দেখা যায় না।

তবে পড়ন্ত বিকেলে এদের দেখা যায়। এমন নিরীহ প্রাণীকে শিকার করা খুব কষ্টকর। এভাবে পাখি নিধন অব্যাহত থাকলে বক বিলুপ্ত হয়ে যাবে। স্থানীয় মাছকারিয়া এলাকার বাসিন্দা গফুর কম্পানি জানান, মাছ, ধান ও প্রাণীকুল সমৃদ্ধ খালবিল জলাশয়গুলোতে যুগ যুগ ধরে অতিথি পাখির আনাগোনা চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ কতিপয় পেশাদার অবৈধ পাখি শিকারি নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত রাখায় অতিথি পাখির অস্তিত্ব চিরতরে হারিয়ে যেতে বসেছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমি এখানে যোগদান করার পর প্রথম শুনেছি। অবশ্যই এ ধরনের পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।


মন্তব্য