kalerkantho


কমিউনিটি ক্লিনিক

দুর্গম পাহাড়ে স্বাস্থ্যসেবায় আশার আলো

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুর্গম পাহাড়ে স্বাস্থ্যসেবায় আশার আলো

‘শেখ হাসিনার অবদান, কমিউনিটি ক্লিনিক বাঁচায় প্রাণ’ স্লোগানে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কমিউনিটি ক্লিনিক রাখছে অগ্রণী ভূমিকা। দূর পাহাড়ি গ্রামের জনসাধারণের বিবিধ স্বাস্থ্যসেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠছে এসব ক্লিনিক।

পুরো জেলায় এমন ১৪৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাচ্ছেন কয়েক লাখ মানুষ। তবে মাঝে মাঝে মেডিক্যাল কর্মকর্তারা কমিউনিটি ক্লিনিকে সময় দিলে স্বাস্থ্যসেবা আরো একধাপ এগিয়ে যেত বলে মনে করেন স্থানীয়রা। আরো ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে।

কয়েক বছর আগেও পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষ অসুখে আক্রান্ত হলে নিশ্চিত বিপদে পড়তেন। সর্দি, কাশি, জ্বর হলেও ছুটে যেতে হত শহরে। চিকিৎসাপত্র ও ওষুধের জন্য তাঁদের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হত।

সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিক সুবিধার কারণে বদলে গেছে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র। প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত স্থাপিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন গরিব ও অসহায় মানুষ। শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, বিনা মূল্যে ওষুধও পাওয়া যায় সেখানে।

জেলা সদরের কমলছড়ি ইউনিয়নের বেতছড়িমুখ কমিউনিটি ক্লিনিক তেমনই একটি।

এখানে কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বে আছেন একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার। তিনি মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসহ এলাকার সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। তাঁর পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিবার কল্যাণ সহকারীরাও সহযোগিতা করেন। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা।

কমলছড়ির বেতছড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিমল কান্তি চাকমা বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকে শুধু স্বাস্থ্য কেয়ার প্রোভাইডারই (সিএইচসিপি) চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। সপ্তাহে অন্তত ২/৩ দিন একজন মেডিক্যাল কর্মকর্তা রোগী দেখলে ভালো হত। গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা শতভাগই পূরণ হয়ে যেত। ’

এখানকার কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অন্তরা তালুকদার জানান, ক্লিনিক থেকে কমপক্ষে ৩০ ধরনের রোগের ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উচ শৈ বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা প্রশিক্ষিত। রোগ সম্পর্কেও ভালো জানেন। গুরুতর অসুস্থ না হলে তাঁরাই রোগ নিরূপণ করে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারেন। ’

এদিকে সরকারের এমন একটি ভালো উদ্যোগ কতিপয় সমস্যার কারণে ভেস্তে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা সদরের দক্ষিণ গোলাবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সমীরণ রোয়াজা বলেন, ‘নিয়মিত বেতন না হওয়ায় আমরা কষ্ট পাচ্ছি। গেল ৬ বছরে একবারও ইনক্রিমেন্ট হয়নি। দেশের এমন ১৪ হাজার কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের একই অবস্থা। ’

শুধু তাই নয়, খাগড়াছড়ির অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা ঠিকঠাক দেওয়া হলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত।


মন্তব্য