kalerkantho


জন্মনিবন্ধন করার ধুম রাউজানে

... মন্ত্রণালয় থেকে নতুন নীতিমালা জারি এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি গ্রহণে জন্মনিবন্ধন সনদের বাধ্যবাধকতার কারণে অভিভাবকরা তাড়াহুড়া করে সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করছেন ...

জাহেদুল আলম, রাউজান   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জন্মনিবন্ধন করার ধুম রাউজানে

জন্মনিবন্ধন করার ধুম পড়েছে রাউজানে। উপজেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়গুলোতে প্রতিদিন ভিড় লেগেই আছে। এতে বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও পৌর কাউন্সিলদের ঘুম যেন হারাম হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় থেকে নতুন নীতিমালা জারি এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি গ্রহণে জন্মনিবন্ধন সনদের প্রয়োজনীয়তার কারণে অভিভাবকরা তাড়াহুড়া করে সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করছেন।

পৌরসভা কার্যালয় ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ নারী-শিশুসহ

বিভিন্ন বয়সী মানুষ জন্মনিবন্ধন করার জন্য সেখানে ভিড় করছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় কাউন্সিলর, ইউপি সদস্যদের যথাসময়ে না পাওয়ায় অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। আবার কেউ কেউ জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদানে অতিরিক্ত টাকাও নিচ্ছেন।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন সনদ নেওয়ার ব্যাপারে সরকার নতুন নীতিমালা জারি করেছে। কেউ বর্তমান বহাল নীতিমালা অনুসারে জন্মনিবন্ধন গ্রহণ করতে চাইলে আগামী রবিবারের মধ্যে তা করে ফেলতে হবে। এর পরে হলে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী জন্মনিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে।’

তিনি জানান, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শিশুর জন্মের ছয় মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে, দুই বছরের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদনে জন্মনিবন্ধন করা যাবে। এর বেশি বয়স হলে মন্ত্রণালয় থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ করতে হবে।

রাউজান পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে পৌরসভার প্যানেল মেয়রের স্বাক্ষর নিতে ভিড় করেছেন কলেজ শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন। ৮নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলম, ৪নং ওয়ার্ডের শামীমা আকতার ও ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ণিমা দাশ জানান, তাঁদের স্ব স্ব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের কেউ চট্টগ্রাম নগরীতে, কেউ ঢাকায় অবস্থান করায় জন্মনিন্ধনের জন্য স্বাক্ষর নিতে প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খানের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান বলেন, ‘সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন ও স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনে জন্মনিবন্ধন সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক হওয়ায় দুর্ভোগ এড়াতে গত একসপ্তাহ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ গ্রহণের সংখ্যা অনেকাংশে বেড়ে গেছে।

তাছাড়া সামনে শিশু শিক্ষার্থীদের নতুন বছরে স্কুলে ভর্তিসহ নানাকাজে জন্মনিবন্ধন অত্যাবশক। জন্মনিবন্ধন করার জন্য লোকজন ফোনেও বিরক্ত করছেন। রাতে ঘুমাতে পারছি না। কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের স্থানীয় লোকজন না পাওয়ায় তাদের চাপ আমাকে সইতে হচ্ছে।’

বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান ভূপেশ বড়ুয়া বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদানে নতুন নীতিমালার ব্যাপারে লিখিত কোনো কিছু এখনো পাইনি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্বাহী আদেশের কারণে ছয় মাসের মধ্যে ছাড়া অন্যান্য প্রত্যক শ্রেণির মানুষকে জন্মনিবন্ধন প্রদান বন্ধ রেখেছি। তবে এই নীতিমালা নিয়ে এখন সঠিক কোনো তথ্য পাইনি।’

উরকিরচর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও দুই শতাধিক বিভিন্ন বয়সী লোক জন্মনিবন্ধন নিতে পরিষদে আসেন। ৬ মাসের পরে মন্ত্রণালয় থেকে জন্মনিবন্ধন নিতে হবে-এমন খবরের পর গত একসপ্তাহ থেকে দৈনিক দেড়-দুই শতাধিক মানুষ পরিষদে ভিড় করছে জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে।’ 

এদিকে কয়েকটি এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা বলেন, ‘সরকারের নতুন আইনের কারণে জন্মনিবন্ধন সনদ গ্রহীতাদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তবে কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বয়স অনুপাতে বিভিন্ন রকম সরকারি ফি গ্রহণ করায় লোকজন আর্থিক বিষয়ে হয়তো ভুল বুঝছেন।’

চিকদাইর ইউনিয়নের তরুণ সংগঠক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন নিয়ে সরকারের নতুন আইনটি জনবান্ধব নয়। এতে সাধারণ জনগণ হয়রানির শিকার হবে।

 



মন্তব্য