kalerkantho


অজপাড়াগাঁয়ের সড়ক নগরে

... দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের উত্তর হাজীপাড়া সড়কের এখন বেহাল দশা। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে সড়ক উন্নয়নে বিন্দু পরিমাণ বালু কিংবা একটি ইটও জোটেনি ...

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অজপাড়াগাঁয়ের সড়ক নগরে

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের উত্তর হাজীপাড়া সড়কের এখন বেহাল দশা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। জল কাদা মাড়িয়ে দিনের পর দিন বাসিন্দারা চলাচল করলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি এ সড়কে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও সড়ক সংস্কারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। স্থানীয়রা জরুরিভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের নন্দীরহাট এলাকার পশ্চিমে শৈলবালা স্কুলসড়ক সংলগ্ন উত্তর হাজীপাড়া সড়কটির অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কের বেহাল অবস্থা চললেও যেন দেখার কেউ নেই।

ভূমি জরিপের রেকর্ড অনুযায়ী, রামঠাকুর ধামের দক্ষিণে সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৮০ ফুট ও প্রস্থ গড়ে ৯ ফুট। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার জনসাধারণ ওই সড়ক দিয়ে চরম দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে যাতায়াত করে। বর্তমানে সড়কটির চেহারাই বলে দেয় এটি যেন কোনো অজপাড়াগাঁয়ের সড়ক। স্থানীয় দেড় শতাধিক পরিবারের হাজারো মানুষ সারা বছর সীমাহীন কষ্টে চলাচল করে ওই পথে। তবে বর্ষাকালে জনদুর্ভোগ নতুন মাত্রা পায়। ওই সময় সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। খানাখন্দের সঙ্গে হাঁটুপানিতে পথ চলতে হয়। এতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। সিটি করপোরেশন এলাকা হলেও এখানে কোনো সড়কবাতি নেই। ভাঙা সড়কে রাতের অন্ধকারে বিপদের ঝুঁকি হয় আরো তীব্র। অবহেলিত এ সড়কের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোট আসার আগে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির যেন শেষ থাকে না। ভোটে জিতলে উত্তর হাজীপাড়া সড়কের উন্নয়নকাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার পর থেকে এ সড়কের কোনো উন্নয়নই করেননি কেউ।’

আরেক বাসিন্দা মো. ইমাম শরীফ বলেন, ‘সড়কটি শুধু ভাঙা আর খানাখন্দে ভরা নয়, পার্শ্ববর্তী প্রভাবশালীরা সড়কের কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে সংকোচনও করে ফেলেছে। এরপরও যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে, তা বরাবরই চলাচল অনুপযোগী। মাটির এ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। কর্দমাক্ত থাকায় জনসাধারণের চলাচলে ভীষণ অসুবিধার সৃষ্টি হয়।’

ওই এলাকার শরীফুল্লাহ দুলাল বলেন, ‘এ সড়কের উন্নয়নে স্থানীয় সব জনপ্রতিনিধি বরাবরে লিখিত আবেদন করেছিলাম। তাঁদের কেউ কেউ এসে সড়কটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে সড়ক উন্নয়নে বিন্দু পরিমাণ বালু কিংবা একটি ইটও জোটেনি।’

সড়কটির সংস্কারে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্প গ্রহণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


মন্তব্য