kalerkantho


গ্রামে গ্রামে সড়কবাতি

২৪ মে, ২০১৭ ০০:০০



গ্রামে গ্রামে সড়কবাতি

সচরাচর মহানগর, জেলা শহর ও পৌরসভার সড়কগুলোতে বৈদ্যুতিক সড়কবাতির দেখা মেলে। কিন্তু গ্রামে গ্রামে সড়কবাতি নেই বললেই চলে।

এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম উপজেলা রাউজান। এখানকার ১৪ ইউনিয়নের প্রায় সড়কে রয়েছে শত শত সড়কবাতি। স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর একান্ত উদ্যোগে এসব সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। রাউজানের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কটি সড়ক রাতে হয়ে ওঠে আলোঝলমল। বিস্তারিত জানাচ্ছেন : জাহেদুল আলম, রাউজান

 

রাউজান উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ১২ ইউনিয়নে ইতিমধ্যে সড়কবাতি স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি পাহাড়তলী ও নোয়াজিষপুর ইউনিয়নে সহসা এই কাজ শুরু হবে। যেসব ইউনিয়ন সড়কবাতির আওতায় এসেছে সেগুলো হলো রাউজান, নোয়াপাড়া, কদলপুর, বিনাজুরী, গহিরা, বাগোয়ান, পূর্ব গুজরা, পশ্চিম গুজরা, ডাবুয়া, হলদিয়া, উরকিরচর ও চিকদাইর। এছাড়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বেশির ভাগ সড়কে বৈদ্যুতিক সড়কবাতি আছে। বাদ যায়নি উপজেলার উপর দিয়ে চলে যাওয়া চট্টগ্রাম-কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক।

সড়ক দুটির রাউজান অংশ রাতে থাকে আলোকিত। এসব সড়কবাতির বৈদ্যুতিক বিল পরিশোধ করেন স্ব স্ব এলাকার বিত্তশালীরা। কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ নিজস্ব তহবিল থেকেও বিল পরিশোধ করে থাকে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষের সেবা করতেই রাজনীতিতে এসেছি। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে রাউজানের মানুষের সুখে-দুখে পাশে আছি। আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। একটাই চাওয়া, রাউজানকে একটি পিংক, গ্রিন ও ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা। এরই অংশ হিসেবে চার বছর আগে প্রতিটি গ্রামের সড়কে বৈদ্যুতিক সড়কবাতি স্থাপনের চিন্তা প্রথম মাথায় আসে। ’

তিনি জানান, রাউজানের জন্য আলাদা একটি বিদ্যুেকন্দ্র রয়েছে। এখানকার মানুষ এখন আর বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে কষ্ট পান না। বিদ্যুতের স্বল্পতা না থাকায় সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে এলাকায় অপরাধও কমে গেছে। শিগগিরই রাউজান হবে একটি মডেল উপজেলা।

সবার আগে প্রথম সড়কবাতি স্থাপন করা হয় পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ তাঁর ইউনিয়নে সড়কবাতি স্থাপনের কাজ শুরু করেন তিন বছর আগে। পরবর্তীতে বাকি ১৩ ইউনিয়নে ধাপে ধাপে সড়কবাতি স্থাপনের কাজ চলে।

বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভূপেশ বড়ুয়া বলেন ‘আমার ইউনিয়নে একবছর আগে কাপ্তাই সড়ক অংশ, নয়াহাট, ব্রাহ্মণহাট, লাম্বুর হাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাতি স্থাপন হয়। ’ তিনি জানান, একসময় পাঁচখাইন দরগাহবাড়ি, নাথপাড়া, বড়ুয়াপাড়া, কোয়েপাড়া শীলপাড়ার মানুষ রাতের অন্ধকারে চলাফেরা করতে পারতেন না। এখন তাঁরা খুব ভালো আছেন, নির্ভয়ে রাত কাটান। ইউনিয়ন পরিষদের দুই লাখ টাকা এবং এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় সড়কবাতিগুলো স্থাপন করা হয়েছে।

উরকিরচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেল বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের উপর দিয়ে চলে যাওয়া চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বৈজ্জাখালী এলাকা, মিয়ারঘাটাসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সড়কবাতির আওতায় আনা হয়েছে। বাকি সড়কগুলোতেও আগামী ঈদের আগে সড়কবাতি লাগানো হবে। ’

বিনাজুরী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সুকুমার বড়ুয়া বলেন, ‘ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম চৌধুরী সড়কসহ প্রত্যন্ত এলাকায় সড়কবাতি স্থাপনকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ’

গহিরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বাশি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেড় শ বৈদ্যুতিক খুঁটি, সড়কবাতি ও তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো স্থানীয় বিত্তশালীরা দিয়েছেন। ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। ’

রাউজান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বি এম জসিম উদ্দিন হিরু বলেন, ‘ইউনিয়নের কাজীপাড়া থেকে নাতোয়ান বাগিচা, কদলপুর সীমান্ত এবং ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়কগুলো বৈদ্যুতিক বাতির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। গত সপ্তাহে এখানে সড়কবাতি উদ্বোধন করেন এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। ’

হলদিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই ইউনিয়ন অনেক বড় এবং পাহাড়ি এলাকা। তবু সব কটি সড়কে জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। ’

চিকদাইর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৬-৭ লাখ টাকার সড়কবাতি স্থাপনের কাজ চলছে। কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আসন্ন ঈদের আগে পুরো ইউনিয়নে সড়কবাতি স্থাপনের কাজ শেষ করা হবে। ’

ডাবুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এলাকার ১০ কিলোমিটার সড়কে বাতি স্থাপনের কাজ দুই বছর আগে শেষ হয়েছে। এতে এলাকার মানুষ বেশ উপকৃত হচ্ছে। ’

পাঁচখাইন এলাকার ষাটোধর্ব আবদুল মালেক বলেন, ‘আমরা বৃদ্ধ মানুষ। চোখে কম দেখি। এই কারণে সন্ধ্যা হলে ঘরবন্দি থাকতে হতো। সড়কে বৈদ্যুতিক আলো থাকায় এখন রাতেও প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে পারছি। ’

রাউজান পৌরসভার প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, ‘ফজলে করিম চৌধুরী এমপি রাউজানের রত্ন। এলাকার উন্নয়নে তাঁর চিন্তাধারা অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা। রাউজানকে সারাদেশে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন এমপি মহোদয়। সেই লক্ষ্যে তিনি একধাপ এগিয়ে গেলেন গ্রামে গ্রামে সড়কবাতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে। ’


মন্তব্য