kalerkantho

চাঁদা তোলে নতুন ঘর

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই   

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



চাঁদা তোলে নতুন ঘর

নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন সৈদালী নাগরিক ফোরামের কর্মকর্তারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

... নাগরিক ফোরাম নামের একটি সংগঠনের আহ্বানে মিরসরাইয়ের সৈদালী গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১১ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিত্তবানরা। প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আট পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবার পেয়েছে আর্থিক অনুদান ...

 

রান্নাঘর থেকে লাগা আগুনে মুহূর্তেই সর্বস্বান্ত কাজল, সলিম, ইউনূসসহ আরো অনেকে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবন কেটেছে খোলা আকাশের নিচে। তাঁদের এমন দুঃসহ দিনে মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নাগরিক ফোরাম নামের একটি সংগঠন। ওই সংগঠনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তরা পাচ্ছেন নতুন ঘর।

নাগরিক ফোরাম নামের ওই সংগঠনের আহ্বানে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সৈদালী গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকার বিত্তবানরা। প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আট পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাকি তিন পরিবারকে অনুদান হিসেবে নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, গ্রামের বিত্তবানদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সংগঠনটি। আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন পাকাঘর সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন নাগরিক ফোরাম নেতারা।

সৈদালী গ্রামের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গ্রামের হাসু ভূঁইয়া বাড়ির তাজুল ইসলাম কাজলের রান্নাঘরের চুলা থেকে সৃষ্ট আগুনে ভস্মীভূত হয়ে আটটি পরিবার নিঃস্ব রিক্ত হয়ে পড়ে। একই অগ্নিকাণ্ডে অন্য আরো তিনটি পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থে সাজানো গোছানো সহায় সম্বল সব হারিয়ে অসহায় ওই পরিবারগুলো খোলা আকাশে নিচে বসবাস শুরু করে। তাঁদের এমন দুর্দশায় পাশে দাঁড়ায় নাগরিক ফোরাম। সংগঠনটি গ্রামের বিত্তবানদের থেকে আর্থিক অনুদান নিয়ে আট পরিবারের জন্য পাকাঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেয়।

নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কালের কণ্ঠতে বলেন, ‘প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ছিল তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। কোনো মহতী কাজ করতে হলে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। আমরা উদ্যোগ নেওয়ার পর গ্রামের অনেক বিত্তবান এগিয়ে এসেছেন। বর্তমানে আমরা সাত লাখেরও বেশি টাকা সংগ্রহ করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঘর নির্মাণে মোট ১৭ লাখ টাকা খরচ হবে। বাকি টাকা দেওয়ার ব্যাপারেও অনেকে আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে ঘর নির্মাণ শেষ করে পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করতে পারব। ’

সংগঠনের সভাপতি ও নিজামপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক জসিম উদ্দিন জানান, এ উদ্যোগে বেশ কাছ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য শেখ আতাউর রহমান, মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান ইয়াসমিন শাহীন কাকলী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হাকিম, খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী, মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনুল কাদের চৌধুরী, সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আহাদ মোহাম্মদ শাহজাহান, আমেরিকার নিউইয়র্কে মিরসরাই সমিতির সভাপতি কাজী নয়ন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাওছার আহম্মদ, কুয়েত প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী এমদাদ হোসেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মেজবা বাচ্চু, ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন ও ফরিদ উদ্দিন বাবু, বামনসুন্দর এফএ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম, মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন লাতু। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল কলেজ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বড়তাকিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমাজসহ অন্তত ৮৪ ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের সৈদালী গ্রামের হাসু ভূঁইয়া বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বাড়ির তাজুল ইসলাম কাজলের রান্নাঘরের চুলা থেকে সৃষ্ট আগুন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়লে বাড়ির মোট ১১টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব পরিবারের মধ্যে আইয়ুব খান, সলিম উল্যা, মোহাম্মদ ভাসানী, কাজল, ইউনুস, আফি উদ্দিন, নুরুল আবছার ও খোকনের ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

এছাড়া বাড়ির ইব্রাহিম খুরশিদ ও ছুট্ট মিয়ার ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


মন্তব্য