kalerkantho


স্কুলটির পাকা দালান হয়নি ৪৩ বছরেও

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী   

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



স্কুলটির পাকা দালান হয়নি ৪৩ বছরেও

উত্তর নাপোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরেও পাকা দালান পায়নি বাঁশখালীর উত্তর নাপোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী চরম ক্ষুব্ধ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাঁশের বেড়া, ছনের ছাউনি, টিনশেড ঘরেই চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। প্রতিবছর ঝড়-তুফানে স্কুলঘরের কিছু না কিছু ক্ষতি হয়। গ্রামের শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের আর্থিক সহযোগিতায় সংস্কার হলেও পাকা দালান নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই শিক্ষা বিভাগের।

জানা গেছে, ১৯৯১ ও ১৯৯৭ এর ঘূর্ণিঝড়ে স্কুলটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় স্কুলঘর তৈরি হয়। স্কুলে যে তিনটি আলমিরা ও চেয়ার-টেবিল আছে সবই নড়বড়ে হয়ে গেছে। দরজা-জানালাও জরাজীর্ণ। দারোয়ান নিয়োগ না থাকায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখা যায় না স্কুলে।

সরেজমিন জানা যায়, ১৯৭৩ সালে এলাকার অন্তত ২০ জন শিক্ষানুরাগী প্রত্যেকে ৬ শতক বা ৩ গণ্ডা করে জমি দিয়ে ১২০ শতক জমির উপর স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সময় থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এটি ‘উত্তর নাপোড়া বেসরকারি রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়’ ছিল। এর পর স্কুলটি সরকারিকরণ হয়ে ‘উত্তর নাপোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নাম হয়েছে। বাঁশখালীতে প্রতিটি বেসরকারি রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে পাকা দালান নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু ওই স্কুলটি আগের ঘরে রয়ে গেছে। এমনকি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলেও সেই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। স্কুলে বর্তমানে ৪২২ জন ছাত্রছাত্রী আছে। পাঁচজন শিক্ষকের স্থলে আছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শফি উল্লাহ আজমি, সহকারী শিক্ষক মীর জহিরুল হক, অপরাণী দাশ ও মৌসুমী সিকদার।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শফি উল্লাহ আজমি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্কুলের এই দুর্ভোগের কথা উপজেলা শিক্ষা অফিসে আমরা অনেকবার জানিয়েছি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আসন্ন বর্ষার আগে কোনো পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম ব্যাঘাত হবে। স্কুলের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টি পড়লে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যাবে। ’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল কবির সওদাগর বলেন, ‘স্কুলের ১২০ শতক জমি রয়েছে। পাকা দালান নির্মাণ এবং স্কুল মাঠ করার যথেষ্ট জমি রয়েছে। এখন স্কুলটি যেহেতু সরকারি হয়েছে সেহেতু প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় স্কুলটিতে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে লেখাপড়া করছে। তবে সরকারিভাবে পাকা দালান হবে বলে শুনেছি। কিন্তু কোনো লক্ষণ চোখে পড়ছে না।

অথচ যেসব স্কুলে পাকা দালান আছে, ওখানে পাকা দালানের পুনরায় বরাদ্দ আসছে। ’

অভিভাবক শেয়ের আলী ও মৌলভী জাকের হোসেনসহ অনেকে বলেন, স্কুলে পাকা দালান নির্মাণ জরুরি। নচেৎ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করা কষ্টকর হবে।

বাঁশখালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল হোসেন বলেন, ‘স্কুলটির দুরবস্থা আমাদের নজরে আছে। শিগগিরই স্কুলটিতে দোতলা পাকা দালান হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মাঠ হবে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যেগে এ ব্যাপারে জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। ’


মন্তব্য