kalerkantho


এবারই শেষ খেলা দিদার বলীর বিয়ে করছেন অবশেষে

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



এবারই শেষ খেলা দিদার বলীর বিয়ে করছেন অবশেষে

ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলার আগের ১০৭টি আসরের সেরা বলী কে? একটু দ্বিমত থাকলেও কক্সবাজারের রামু উপজেলার দিদার বলীর চেয়ে সফল কোনো বলীর খোঁজ অন্তত মেলেনি কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে। ওই বলীখেলার ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী বলীটি এবার অবসরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলীখেলাটাই ছিল যাঁর ধ্যানজ্ঞান, বয়স ৪০ ছুঁই ছুঁই সেই দিদার বলী অবসরে গিয়ে বিয়ের পিঁড়িতেও বসবেন বলে সলজ্জ কণ্ঠে জানালেন।

২০০১ সালে জব্বারের বলীখেলা দিয়েই খেলা শুরু করা দিদার প্রথম আসরেই দিয়েছিলেন চমক। প্রথমবার অংশগ্রহণে ফাইনালে ওঠে সেই সময়ের টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন ছিদ্দিক বলীর সাথে যুগ্মভাবে শিরোপা অর্জন করেন। এর পর থেকে শতবর্ষী এই আয়োজনে তাঁকে খুব একটা পরাজিত করতে পারেননি কেউ। এ পর্যন্ত পাঁচবার একক এবং ছয়বার যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন তিনি। অর্থাৎ ১১ বারের চ্যাম্পিয়ন দিদার। জব্বারের বলীখেলার ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি কেউ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মৃতি মনে করতে পারলেন না কেউ।

এবারের জব্বারের বলীখেলা দিয়েই অবসান হচ্ছে রামুর দিদার বলী সাম্রাজ্যের। ২০০১ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা দিয়ে উত্থান হয়েছিল দিদার বলীর। তাই তো বিদায় নেওয়ার আদর্শ উপলক্ষ হিসেবে জব্বারের বলীখেলাকেই বেছে নিলেন তিনি।

এবারের পহেলা বৈশাখ চট্টগ্রামের সিআরবিতে অনুষ্ঠিত শাহাবুদ্দিনের বলীখেলায় মাত্র ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডে হারিয়েছেন জব্বারের বলীখেলার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উখিয়ার শামসু বলীকে। তাই বলীখেলায় জীবনের শেষ বাউটেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন দিদার বলী।

এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘গতবার প্রস্তুতি ভালো ছিল না, তাই শামসু বলীকে হারাতে পারিনি। কিন্তু এবার ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। মহড়া হিসেবে শাহাবুদ্দিনের বলীখেলায় প্রথম প্রচেষ্টাতেই তাঁকে পরাজিত করেছি। আশা করছি, জব্বারের বলীখেলাতেও জয় নিয়ে বিদায় নিতে পারব। ’

দীর্ঘ ১৭ বছরের বলী খেলায় নিজের কাছে সবচেয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ মনে হয়েছে খুলনার বেলাল বলীকে। বেশ কয়েকবছর আগে কক্সবাজারের ডিসির বলীখেলার ফাইনালে তাঁরা দুজন যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।

তবে জব্বারের বলীখেলার সবচেয়ে শক্তিশালী পুরুষটি ব্যক্তিগত জীবনে এখনো অবিবাহিত। বিয়ে না করার অনেক কারণের মধ্যে প্রথমেই রাখলেন, বলীখেলার প্রতি একাগ্রতাকে। তবে সাত ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয় দিদার খেলা থেকে অবসরের পর যত দ্রুত সম্ভব বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন বলে কালের কণ্ঠকে জানালেন।

বলীখেলা থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেও পিছনে ফিরে কোনো উত্তরসূরি দেখছেন না চট্টগ্রামের বলীখেলার সবচেয়ে লড়াকু সৈনিকটি। কিছুটা হতাশা নিয়েই বললেন, ‘বলীখেলায় কোনো সম্মান নেই, নেই পৃষ্ঠপোষক। সরকারি কোনো স্বীকৃতিও নেই। এ কারণে তরুণ প্রজন্ম সেভাবে উৎসাহিত হচ্ছে না। আগামীতে রাজত্ব করবে এমন কোনো বলীও চোখে পড়ছে না। ’ এই অভিমান থেকে ভবিষ্যতে বলীখেলা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডের সাথেই নিজেকে যুক্ত রাখতে চান না দিদার।

এদিকে, জব্বারের বলীখেলার ইতিহাসে সেরা খেলোয়াড় দিদারের অবসর গ্রহণ উপলক্ষে সম্মাননা জানানো হবে বলে জানালেন আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আয়োজক কমিটির সভাপতি জহরলাল হাজারী।

তিনি বলেন, ‘মূলত দিদার ও মর্ম সিং ত্রিপুরা জব্বারের বলীখেলার এ পর্যন্ত প্রশিক্ষিত যোদ্ধা। এর আগে-পরে যাঁরা এসেছেন গ্রামাঞ্চল থেকে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ কিংবা পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই অংশ নিতেন। আমার জানা মতে, দিদারের চেয়ে বেশি এই প্রতিযোগিতায় কেউ শিরোপা জিতেননি। ’

তাঁর বিদায়ে জব্বারের বলীখেলায় কিছুটা প্রভাব পড়বে স্বীকার করে তাঁকে সম্মাননা জানানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করেন জহরলাল হাজারী।

একই সাথে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও তাঁকে ক্রীড়ায় কোনো ধরনের পদক দেওয়া যায় কি না সে ব্যাপারে তিনি পদক্ষেপ নেবেন বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।


মন্তব্য