kalerkantho

আমগাছে আম নেই!

মনু ইসলাম, বান্দরবান   

১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



আমগাছে আম নেই!

... গত মৌসুমে বান্দরবান জেলায় আমের উত্পাদন হয়েছিল ৮২ হাজার মেট্রিক টন। এবার চাষের জমি বেড়ে গেলেও ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম ত্পাদনও সম্ভব হবে না বলে কৃষকের আশঙ্কা।

আগাম বৃষ্টিজনিত কারণে মুকুল ঝরে যাওয়ায় চলতি বছর আমের উত্পাদন অর্ধেকে নেমে যেতে পারে ...

 

আগাম বৃষ্টিজনিত কারণে মুকুল ঝরে যাওয়ায় এবার বান্দরবানে আমের উত্পাদন অর্ধেকে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত মৌসুমে এই জেলায় মোট আমের উত্পাদন ছিল ৮২ হাজার মেট্রিক টন। এবার চাষের জমি বেড়ে গেলেও ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উত্পাদনও সম্ভব হবে না বলে কৃষকের আশঙ্কা।

বান্দরবান জেলা সদর, রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি এবং লামা উপজেলার সরই এলাকা ঘুরে কোনো গাছেই আগের মতো আম দেখা যায়নি। কোনো গাছে অর্ধেক, কোনো গাছে, এক-চতুর্থাংশ এবং কোনোটি আমবিহীন অবস্থায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে।

সদর উপজেলার আম চাষি শান্তিমন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, গাছে ফুল ও ফল আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় বিক্রয়মূল্য দিয়ে উত্পাদন ব্যয় পুষিয়ে নেওয়াও সম্ভব হবে না। তাই খরচ কমাতে তিনি আমবাগানে প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে বা সার প্রয়োগ করেননি। তিনি বলেন, ‘এবার কাঙ্ক্ষিত আমের ফলন না পাওয়ায় আমার সাংবাৎসরিক আয়ে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটবে। ’

বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারের ইনচার্জ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, আগাম বৃষ্টির কারণে ফুল ও মুকুল ঝরে যাওয়ায় সর্বোচ্চ তদারকি ও পরিচর্যা সত্ত্বেও সরকারি খামার পর্যায়ে এবার আমের ফলন অর্ধেকের চেয়েও নিচে নেমে যেতে পারে।

তিনি জানান, এবার মুকুল এসেছে কিছুটা দেরিতে। অন্যদিকে, আগাম বৃষ্টির কারণে ফল হওয়ার আগেই মুকুল ঝরে যাওয়ায় আম চাষে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফলে এ বছর এখানকার উত্পাদন দিয়ে জেলাবাসীর চাহিদা পূরণও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত রোদ পড়ায় গাছে থাকা আম ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, আরো দুটি সম্ভাব্য নিম্নচাপের কারণে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। এতেও আমের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। ’

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন জানান, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে বান্দরবান জেলায় ৪৫১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করে ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আমের ফলন পেয়েছেন কৃষক। পরের বছর চাষের জমি বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮২০ হেক্টরে। সেই বছর ফলন আসে ৮২ হাজার মেট্রিক টন। ধারাবাহিক ভালো ফলনের কারণে চলতি বছর আম চাষের জমি ৪৯৩০ হেক্টরে পৌঁছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ফলন না পেলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিতে পারে।

এদিকে, অতীতের অভিজ্ঞতায় চাষি পর্যায়ে পাইকাররা এবারও আগাম অর্থ লগ্নী করেছেন। ফলন খারাপ হলে পাইকাররা চাহিদা অনুযায়ী আম সংগ্রহ করতে পারবেন না। এ কারণে তাঁরাও এখন দুঃশ্চিন্তায় আছেন।


মন্তব্য