kalerkantho


ছাত্রীদের হলে থাকতে হয় গাদাগাদি করে

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ছাত্রীদের হলে থাকতে হয় গাদাগাদি করে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনির্মিত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা হল’ চালু হলে ছাত্রীদের আবাসন সংকট অনেকটা কেটে যাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পরও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট চলছে। আবাসন সমস্যা ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের তীব্র।

অথচ প্রতিবছরই ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সেই হারে হলে আসন বাড়ছে না। এখন ছাত্রী সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার। মেয়েদের তিন হলে আসন আছে মাত্র ১৫২০টি। আর সেখানে থাকছে প্রায় তিন হাজার ছাত্রী।

এদিকে, ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা দূর করতে পাঁচতলাবিশিষ্ট ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা হল’ নামে একটি হলের নির্মাণকাজ চলছে। এ জন্য মোট বাজেট ৪২ কোটি ২৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। তবে গত জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ হয়েছে ২৩ কোটি ৪১ লাখ ৫২ হাজার টাকার। যা মোট কাজের ৫৫.৪২ শতাংশ।

অন্যদিকে, ওই হলের প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকদের বাসভবন নির্মাণের জন্য ৪ কোটি ৭৮ লাখ চার হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে ৩ কোটি ৮১ লাখ ৪ হাজার টাকার কাজ শেষ হয়েছে। যা মোট কাজের ৭৯.৭০ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের চতুর্থ হল ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা’। এটির নির্মাণকাজ ২০১১ সালে শুরু হয়ে ২০১৪ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে অর্ধেক কাজ শেষ করে ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হলটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু পুরোপুরি কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ শেষ করতে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত লাগবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা, বাজেটখাত বিবেচনা, পছন্দমতো ঠিকাদার না পাওয়া এবং দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বানসহ নানা কারণেই মূলত নির্মাণকাজ ধীরগতিতে হচ্ছে। তবে পাঁচতলাবিশিষ্ট জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করা হবে। এতে আসন থাকবে ৭৫০টি। এটি চালু হলে ছাত্রীদের আবাসিক সংকট অনেকটা কমে যাবে। ’

ছাত্রীদের অভিযোগ, ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের আবাসিক সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল ও বৈষম্যমূলক। তাছাড়া প্রতিটি আসনে দুজন করে থাকতে হয়।   অথচ ছেলেদের হলে প্রতি আসনে একজনের জন্য বরাদ্দ।

অন্যদিকে, ছাত্রীদের জন্য ‘সন্ধ্যাআইন’ চালু আছে। সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে হলে না ফিরলে কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ দর্শাতে হয়।

খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আরিফা জাহান বলেন, ‘এখানে ৫০৮ আসনের বিপরীতে প্রায় ১০০০ ছাত্রী অবস্থান করছে। গণরুমে ৩০ জন থাকার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে ৬০ থেকে ৭০ জন থাকে। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শামসুন নাহার হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মেয়েদের প্রতি এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়ে প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। ’

ছাত্রীরা জানান, আবাসিক হল ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ছাত্রীদের থাকার কোনো সুব্যবস্থা নেই। যে কয়েকটি কটেজ বা মেস আছে সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে।

যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপর্যাপ্ত, অস্বাস্থ্যকর ও নিরাপত্তাহীন। এছাড়া মাস শেষে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

 


মন্তব্য