kalerkantho


পর্যটন সম্ভাবনা

বান্দরবানের ‘হিলি লেক ক্যাসেল’

মনু ইসলাম, বান্দরবান   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বান্দরবানের ‘হিলি লেক ক্যাসেল’

শুরু হয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আলীকদম উপজেলা সদর থেকে চার কিলোমিটার এগোলেই চিরিঙ্গ্যা-আলীকদম সড়ক। এর চার কিলোমিটার দূরে তারাবুনিয়ায় নেমে তিন কিলোমিটার পাহাড়ি পথ অতিক্রম করলেই নাইক্ষ্যংঝিরি এলাকা।

একসময় মাছচাষ করার জন্য দুটি পাহাড়ের মাঝখানে মাটির বাঁধ দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছিল সাধারণ একটি জলাশয়। এখন মাছচাষের সীমানা ছাড়িয়ে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে ওই জলাশয়।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার পাহাড়ি ক্রিকে মৎস্যচাষ’ প্রকল্পের আওতায় বছর তিনেক আগে নাইক্ষ্যংঝিরির উ থোয়াই মারমার মালিকানাধীন জমিতে জলাশয়টি সৃজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।

কিছুদিন পতিত থাকার পর সংস্কার করে জলাশয়ে পানি জমানোর পর উ থোয়াই মারমার বুদ্ধি খুলে যায়। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। একই সময়ে জলাশয়টির উপর চোখ পড়ে ঢাকার একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের। তাদের হাতের ছোঁয়ায় ক্রমশ মোহনীয় সাজে সাজতে থাকে নাইক্ষ্যংঝিরি লেক। এখন এর নতুন নাম হয়েছে ‘হিলি লেক ক্যাসেল। ’ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনায় রয়েছে কটেজ এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করে এটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে রূপ দেওয়ার।

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতি পেতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের কাছে।

সম্প্রতি ওই এলাকা ঘুরে এসেছেন আলীকদমের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নায়িরুজ্জামান। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মোস্তফা এবং আলীকদমের সাংবাদিক মমতাজ উদ্দিন আহমদ তাঁর সাথে ছিলেন।

কালের কণ্ঠকে মমতাজ উদ্দিন জানান, প্রস্তাবিত ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ এর পাশের দুটি পাহাড়ে উ থোয়াই মারমার জমি ছাড়াও আরো ৫০ থেকে ৬০ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। বিজ্ঞান ও পরিবেশ সচেতন চিন্তা-চেতনানির্ভর ও পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সংযোজন ঘটানো গেলে ‘হিলি লেক ক্যাসেল’ হয়ে ওঠবে প্রাকৃতিক পরিবেশের এক অনন্য পর্যটনকেন্দ্র।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রস্তাবিত এই পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনা করা যেতে পারে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্ট কৃত্রিম এই লেক দৈর্ঘ্যে প্রায় ২০০ ফুট এবং প্রস্থে কোথাও ৫০, কোথাও ৩০ ফুট। ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীরতার লেকে সম্প্রতি সংযোজন করা হয়েছে কাঠের একটি নৌকা। চমত্কার এই নৌকায় চড়ে বৈঠা চালিয়ে লেকের এপার থেকে ওপারে ঘুরে বেড়ানো যায়। নাইক্ষ্যংঝিরির  হিলি লেক-এর খবর ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে লেক ঘুরে দেখতে আশপাশের লোকজন প্রতিদিন ওই এলাকায় যাচ্ছেন।


মন্তব্য