kalerkantho


বাঁশখালীর তারেক পার্ক

যেখানে বেড়াতে টাকা লাগে না

... আছে ময়ূর-ময়ূরি উটপাখি ও বাজপাখিসহ নানা জাতের পাখি ...

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



যেখানে বেড়াতে টাকা লাগে না

উপজেলার নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজে এখানে বেড়াতে কোনো টাকা-পয়সা খরচ হয় না। আছে ময়ূর-ময়ূরি, উটপাখি ও বাজপাখিসহ নানা জাতের পাখি।

নৈসর্গিক পরিবেশে পর্যটকদের নানামুখি সহযোগিতায় আছেন ছয়জন বেতনধারী কর্মকর্তা-কর্মচারী। ‘তারেক পার্ক’ নামেই এটি বেশি পরিচিতি পাচ্ছে।

বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের জঙ্গল নাপোড়া ফরেস্ট অফিসের পাশেই গেলে দেখা যাবে পর্যটকদের আনাগোনা।

পাহাড়ি পথ বেয়ে একটু ঢুকতেই নানা কারুকাজ আর মনোরম নকশায় গড়া শিল্পীদের সুনিপুণ দৃশ্যপটে সাজানো সব স্থাপনা মুহূর্তেই আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। মাটি, কাঠ, ছন, বেত, রশি ও পরিত্যক্ত গাড়ির টায়ার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রেস্টহাউস, রেস্টুরেন্ট, রান্নাঘর, শয়নকক্ষ, দোলনা ও শৌচাগারসহ নানা স্থাপনা। বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার জন্য চার চাকার দুটি কট বাইকও রাখা হয়েছে।

নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘২০১২ সাল থেকে একটু একটু করে গড়ে তোলা হয়েছে পার্কটি। এ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ

করা হয়। বর্তমানে পার্কের জায়গা প্রায় ১২ কানি বা ৪৮০ শতক।

এখানে আরো অনেক স্থাপনা নির্মাণ এবং চিড়িয়াখানা স্থাপন করা হবে। চারটি হাতির স্ট্যাচু তৈরি করা হবে। কটেজ নির্মাণ করা হবে। সৃষ্টি করা হবে কৃত্রিম লেক। ’

তিনি জানান, বর্তমানে পার্কে ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। প্রতিমাসে পার্কে খরচ হচ্ছে ৬৩ হাজার টাকা। এছাড়া দৈনিক মজুরির শ্রমিকও রয়েছেন। এখানে এখন ১১টি ময়ূর-ময়ূরি, একটি উটপাখি ও একটি বাজপাখি রয়েছে।

পার্ক অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশে অসংখ্য বন্যপ্রাণি অনায়সে ঘোরাফেরা করে।

নাপোড়া অর্গানিক ইকো ভিলেজের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষের চিত্ত বিনোদনের জন্য এই পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে পার্ককে আরো আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে। ’

বনবিভাগের জলদী রেঞ্জ কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রকৃতির মাঝে সাজানো গোছানো এই মনোরম পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের যেভাবে আনন্দ দিচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। প্রতিদিন পর্যটকরা আনন্দ পাচ্ছেন এখানে এসে। ’


মন্তব্য