kalerkantho


শতবর্ষী বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শতবর্ষী বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়

১০০ বছরের পুরনো বিদ্যালয়ের মূল ফটক।

১০০ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়। আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ মার্চ তিন দিনব্যাপী বিদ্যালয়ের ‘শতবর্ষ’ উদযাপন উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে সাবেক ছাত্রছাত্রীরা প্রিয় সহপাঠী ও বন্ধুদের দেখা পাবে বহুদিন পর। প্রাণখোলা আড্ডা, ক্রীড়া অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ, মধ্যাহ্ন ভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দ শোভাযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে।

অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নাদেরুজ্জামান চৌধুরীকে সভাপতি ও তপন মিত্র চৌধুরীকে সদস্যসচিব করে ২১৩ জনের উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার সাবেক ছাত্রছাত্রী নিবন্ধন করেছেন।

বাণীগ্রামে নয়নাভিরাম ছোট্ট টিলার উপর ছয় একর জায়গাজুড়ে রয়েছে বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়। শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠ বহু শিক্ষাব্রতী মানুষের প্রচেষ্টার ফসল।

গত এক শতাব্দীতে বিদ্যালয়টি অনেক কীর্তিমান শিক্ষার্থীর জন্ম দিয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এখানকার শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

বাণীগ্রামের সম্ভ্রান্ত রায় পরিবারের তিন ভাই গিরিন্দ্র চন্দ্র রায়, সুরেন্দ্র চন্দ্র রায় ও নগেন্দ্র কুমার রায় ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

শুরুতেই যোগেশ চন্দ্র দাস ও কালী কুমার আচার্য শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

সেই সময় ছাত্র ছিল মাত্র সাতজন। ১৯২০ সালে দশম শ্রেণি খোলার পর এটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপ নেয়। ১৯১৯ সালে বিদ্যালয়টি বাঁশখালীর প্রথম মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি লাভ করে। ১৯২১ সালে বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় সাতজন অংশ নেন।

বাঁশখালী মূল সড়কের পাশে শহীদ মিনার থেকে মাত্র ১০০ মিটার পূর্বে পাহাড়ের চূড়ায় বিদ্যালয়টির অবস্থান।

বিদ্যালয়ে আছে ছোট বড় ছয়টি ভবন, কম্পিউটার ল্যাব, দুটি বিজ্ঞানাগার, দুটি ছাত্রাবাস, মসজিদ, মিলনায়তন ও খেলার মাঠ। বিদ্যালয়ের ৪২ ছাত্র ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এটি মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যালয়ও ছিল ওই সময়ে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের খবর পেয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতীকী ধর্মঘট করেন।

এই বিদ্যালয় অনেক মানুষের দানে গড়ে ওঠেছে।

খেলার মাঠের জন্য বিদ্যালয়ের তত্কালীন কর্মপরিষদ সদস্য ক্ষিরোদ রঞ্জন দাশের অক্লান্ত চেষ্টায় ১৯৩৩ সালে তত্কালীন ভারতীয় বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য বৈলছড়ি নিবাসী খান বাহাদুর বদি আহম্মদ চৌধুরী জমি কিনে খেলার মাঠের জন্য দান করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান নিবাসী খান বাহাদুর আব্দুল মমিনও বিদ্যালয়ের জন্য জায়গা দান করেন।

১৯৩৬ সালে এই বিদ্যালয় প্রথম সরকারি সহযোগিতা পায়। ১৯৬২ সালে গৌবিন্দ্র প্রসন্ন চৌধুরী ডাক বিভাগের চাকরির অবসরের পুরো টাকা বিদ্যালয়ে দান করেন।

সুরথ কুমার চৌধুরী, সাবেক শিক্ষার্থী।

 


মন্তব্য