kalerkantho


বেড়েছে তামাকচাষ পুড়ছে বনের কাঠ

... এক সময়ে সবজির জন্য বিখ্যাত দীঘিনালায় এখন সবজিচাষ নেই বললেই চলে। মাঈনী নদীর দুই তীরের জমি পুরোটা তামাকের দখলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ির আঙিনা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি, নদীর চর সবকিছুই তামাকের দখলে। যেদিকে চোখ যায় শুধু তামাক আর তামাক ...

জাকির হোসেন, দীঘিনালা   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বেড়েছে তামাকচাষ পুড়ছে বনের কাঠ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বেড়েছে তামাকচাষ। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের চেয়ে এবার ৩৫ একর বেশি জমিতে তামাকচাষ হয়েছে। যদিও স্থানীয় সূত্রমতে এর পরিমাণ আরো বেশি। আর সাত শতাধিক তামাকচুল্লিতে উৎপাদিত তামাকপাতা শুকানো হচ্ছে। এসব চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনের কাঠ। চুল্লিগুলোর বিশাল জ্বালানির জোগান দিয়ে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল।

এক সময়ে সবজির জন্য বিখ্যাত দীঘিনালায় এখন সবজিচাষ নেই বললেই চলে।

মাঈনী নদীর দুই তীরের উর্বর জমি পুরোটা তামাকের দখলে। বাড়ির আঙিনা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি নদীর চর সবকিছুই তামাকের দখলে। যেদিকে দুই চোখ যায় শুধু তামাক আর তামাক।

উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুপন চাকমা জানান, গত বছর তামাকচাষ হয়েছিল ১ হাজার ২৪০ একর (৪৯৬ হেক্টর) জমিতে। আর চলতি বছর চাষ হয়েছে ১ হাজার ২৭৫ একর (৫১০ হেক্টর) জমিতে। এবার ৩৫ একর বেশি জমিতে তামাকচাষ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত বছর তামাকচুল্লি ছিল ৬৯৬টি। এবার যেহেতু চাষের জমির পরিমাণ বেড়েছে সে হিসাবে কমপক্ষে ৭০০ তামাকচুল্লি থাকার কথা। তবে বাস্তবে তামাক চাষের পরিসংখ্যান কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি। ’

সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকায় এখন সবজিচাষ নেই বললেই চলে। মাঈনী নদীর দুই তীরবর্তী জমি পুরোটা তামাকের দখলে। যেখানে একটু ফাঁকা জায়গা আছে, সেখানেই করা হয়েছে তামাকচাষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তামাকচাষিরা জানিয়েছেন, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণে চুল্লিতে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক তামাকচাষি জানান, তামাক ক্ষেতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কীটনাশক এবং অতিরিক্ত সার ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারী চাষিদের শারীরিক কিছুটা সমস্যা হতে পারে বিষয়টিও তাঁদের জানা আছে। এছাড়া জমির উর্বরতাও নষ্ট হয়। এর পরও পণ্য বিক্রির নিশ্চয়তা এবং আর্থিক লাভের কারণে তাঁরা বাধ্য হয়ে তামাকচাষ ছাড়তে পারছেন না। এছাড়া রবিশস্য বা অন্যান্য চাষে ফসল নষ্ট হওয়া এবং বাজারজাতের সমস্যা সর্বশেষ ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। আর তামাকচাষ করলে কম্পানির লোকজন সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। সর্বশেষ, বিক্রির পর এক সাথে টাকা পওয়া যায়। এসব সুবিধার কারণেই ক্ষতিকর জানার পরেও তামাকচাষে ঝুঁকছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এম শাহনেয়াজ জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং তাঁদের প্রশিক্ষণের সময় তামাকচাষে নিরুত্সাহিত করা হয়। এখন প্রয়োজন কৃষকদের সচেতন হওয়া।

তামাকচুল্লিতে কাঠ পোড়ানোর ব্যাপারে নাড়াইছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগ এবং বন বিভাগকে সমন্বয় করেই উদ্যোগ নিতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবেন এবং করণীয় সম্পর্কে ভেবে দেখবেন।

 


মন্তব্য