kalerkantho


শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক

দেশের সবচেয়ে বড় ক্যাবল কার রাঙ্গুনিয়ায়

শিমুল নজরুল   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দেশের সবচেয়ে বড় ক্যাবল কার রাঙ্গুনিয়ায়

সবুজ পাহাড়, এক মাথা থেকে আরেক মাথায় ক্যাবল কার, মাটি থেকে শ দুয়েক ফুট উঁচুতে চড়া, কানে বাজবে পাখপাখালির সুর; সব মিলিয়ে এক অসাধারণ নৈসর্গিক পরিবেশ।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্কে রয়েছে এমন পরিবেশ।

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে এই পার্কে আছে দেশের সবচেয়ে বড় রোপওয়ে। রোপওয়ে মানে ক্যাবল কার। যা এখানকার পর্যটনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ২০১০ সালে পার্কটি উদ্বোধন হয়।

সম্প্রতি সেখানে ক্যাবল কারে চড়তে গিয়ে মনে পড়লো জাপানের টোকিও শহরের অদূরে হাকোনে রোপওয়ের কথা। ঘরের কাছে পাহাড় ঘেরা শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক না দেখে গিয়েছিলাম বিশ্বের অন্যতম আধুনিক দেশ জাপানের টোকিও শহরে। টোকিও শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে হাকোনে রোপওয়েতে চড়ার সুযোগ হয়েছিল।

প্রযুক্তিগত কিছু পার্থক্য ছাড়া অনেকটা মিল পাওয়া যায় শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্কের রোপওয়ে এবং জাপানের হাকোনে রোপওয়ের মধ্যে। রোমাঞ্চকর অনুভূতি, ভয় ও উত্তেজনা সব অনুভবের সুযোগ আছে ক্যাবল কারে চড়ার সময়।

একই রোমাঞ্চকর অনুভূতি মিলবে রাঙ্গুনিয়ায় সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্কের রোপওয়েতে। প্রায় ১০০ ফুট উপর দিয়ে যাতায়াত করে এই ক্যাবল কার। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে যাত্রা করা ক্যাবল কার পাঁচ ধাপ পার হলে পাহাড়চূড়ায় পৌঁছে। প্রায় ১২০০ মিটার পথ পাড়ি দেয় এটি। পথে ছোট হ্রদ, কয়েকটি উঁচু-নিচু পাহাড়, ধানক্ষেত অতিক্রম করার সময় অনেকে আঁতকে ওঠেন।

রোপওয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সাঈদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১০ সালে পার্কের উদ্বোধন হলেও  রোপওয়ে সংযোজন হয়েছে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। এই পার্কে রোপওয়েতে ক্যাবল কার রয়েছে ১২টি। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চালু থাকে এগুলো। ’

জাপানে ক্যাবল কারগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে। আর এখানে হয় ম্যানুয়েলি। জাপানে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা দিয়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পুরো যাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়। আর এখানে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ওয়ারলেস সেটে বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হয়। আরো কিছু পার্থক্য রয়েছে। জাপানের ক্যাবল কারে একসঙ্গে যাত্রী পরিবহন করা যায় ১০১ জন। আর শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্কের একেকটি ক্যাবল কারে যাত্রী উঠতে পারেন মাত্র ছয়জন।

ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে পাহাড়চূড়া হয়ে আবার ফিরতে সর্বমোট ২০ মিনিট সময় লাগে। তবে পর্যটক চাইলে পাহাড়চূড়ায় নেমে বেড়াতেও পারেন। পার্কটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সরকারের বন বিভাগ।

পার্কে বেড়াতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শায়লা বিনতে হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশ অনেক সুন্দর। চট্টগ্রামেই রোপওয়ে-ক্যাবল কার আছে তা অনেকে জানেন না। আমিও জানতাম না। এখানে এসে জেনেছি। ’

তিনি জানান, বান্দরবানে মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে ছোট আকারে একটি রোপওয়ে আছে। সেটি দেশের প্রথম রোপওয়ে।

‘এই রূপসী বাংলাকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারলে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা যাবে। তাই পর্যটনখাতে সরকারি-বেসরকারিভাবে আরো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আমাদের সম্ভাবনা কাজে লাগালে একদিকে কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে রাজস্ব আয়ের পথ তৈরি হবে। ’-বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।


মন্তব্য