kalerkantho


সাতকানিয়ার বাঙ্গি

আকারে বড় দেখতে সুন্দর আর খেতে সুস্বাদু

জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আকারে বড় দেখতে সুন্দর আর খেতে সুস্বাদু

সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ মৌসুমি ফল বাঙ্গির চাষ বাড়ছে সাতকানিয়ায়। অল্প সময় ও খরচে ভালো লাভ হওয়ায় বাঙ্গিচাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষক।

অন্য মৌসুমি সবজির ‘সাথী ফসল’ হিসেবেও বাঙ্গিচাষ করা যায়। আমন ধান কাটার পর জমি যখন পতিত অবস্থায় থাকে তখন বাঙ্গিচাষ করা যায়।

এদিকে বাজারে পুরোদমে বাঙ্গি আসতে আরো কিছুদিন লাগবে। তবে যেসব কৃষক অধিক লাভের আশায় আগাম চাষ করেছেন তাঁরা ক্ষেত থেকে বাঙ্গি সংগ্রহ শুরু করেছেন। স্থানীয় বাজারগুলোতে পাকা বাঙ্গি আসতে শুরু করেছে। আগাম হওয়ায় চাহিদাও ব্যাপক। তবে দাম একটু চড়া।

চাষি ও পাইকারি ক্রেতারা জানিয়েছেন, সাতকানিয়ার ছদাহা-কেঁওচিয়া এলাকায় উৎপাদিত বাঙ্গি আকারে বড়, দেখতে সুন্দর এবং স্বাদে অনন্য। তাই চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে এখানকার বাঙ্গির আলাদা কদর রয়েছে।  

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রমতে, সাতকানিয়ায় ১২০ কানির অধিক জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়। বিশেষ করে ছদাহা, কেঁওচিয়া, এঁওচিয়া, মাদার্শা ও চরতির কৃষক দিন দিন বাঙ্গি চাষে ঝুঁকছেন।

ছদাহা ইউনিয়নের উত্তর ছদাহা, কেঁওচিয়া ও মাহালিয়ার বিলজুড়ে বাঙ্গিচাষ করা হয়েছে। কিছু জমিতে শুধু বাঙ্গিচাষ করা হয়েছে। আবার কিছু জমিতে অন্য মৌসুমি ফসলের ‘সাথী ফসল’ হিসেবে বাঙ্গিচাষ হয়েছে। রাতে বাঙ্গি পাহারা দেওয়ার জন্য ক্ষেতের মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে টংঘর। ক্ষেতে মাটির উপর ছড়িয়ে রয়েছে বাঙ্গির সবুজ লতাপাতা। এসব লতাপাতার ফাঁকে ফাঁকে শোভা পাচ্ছে ছোট বড় অসংখ্য বাঙ্গি। পুরো ক্ষেতে হলুদ রঙের পাকা, সবুজ রঙের কাঁচা কচি বাঙ্গি আর ফুলে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যধারণ করেছে। ক্ষেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাতাসে মিলবে পাকা বাঙ্গির সুঘ্রাণ। নারী-পুরুষ ও শিশুরা ক্ষেতের পরিচর্যায় সারাদিন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ছদাহা, কেঁওচিয়া ও মাহালিয়ার বিলে উৎপাদিত বাঙ্গি বিক্রিকে কেন্দ্র করে উপজেলার দস্তিদার হাটে প্রতিদিন সকালে পাইকারি বাজার বসছে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হয়ে এক টানা ১১টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। আকারে বড় বাঙ্গির প্রতিভার ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। মাঝারি ও ছোট সাইজের বাঙ্গির প্রতিভার ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। পুরোদমে বাঙ্গি ছেঁড়া শুরু হলে দাম আরো কমে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

লোহাগাড়া থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা জানে আলম ও নুরুল কবির বলেন, ছদাহা ও কেঁওচিয়া এলাকায় উৎপাদিত বাঙ্গি বেশ মজাদার। পুরো চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখানকার বাঙ্গির আলাদা সুনাম রয়েছে। এসব বাঙ্গির আকার ও রং দেখে ক্রেতারা সহজে চিনতে পারেন। দাম একটু বেশি হলেও এখানকার বাঙ্গি বেশি কেনেন ক্রেতারা।

সাতকানিয়ার কেঁওচিয়ার বুচিরপাড়ার বাঙ্গি চাষি নন্না মিয়া জানান, তিনি ১২ বছর ধরে বাঙ্গি চাষ করছেন। শুরুর দিকে মাত্র কয়েক শতক জমিতে বাঙ্গিচাষ করেছিলেন। কম সময়ে এবং খরচে ভালো লাভ হওয়ায় বছরের পর বছর বাঙ্গিচাষ বৃদ্ধি করেছেন। এ বছর তিনি এক কানি জমিতে বাঙ্গিচাষ করেছেন। জমির খাজনা, সার ও কীটনাশকসহ ৩৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগাম ফলন পাওয়ায় বাজারে বাঙ্গির দামও পেয়েছি ভালো। ইতিমধ্যে উৎপাদন খরচ ওঠে গেছে। আরো ৩০-৩৫ হাজার টাকার বাঙ্গি বিক্রি করা যাবে। ‘একই জমিতে বাঙ্গির ফাঁকে ফাঁকে বরবটি চাষ করেছি। বাঙ্গি ক্ষেতের পরিচর্যার সাথে সাথে বরবটি ক্ষেতের কাজও সেরে নিচ্ছি। বাঙ্গি বিক্রি শেষ হওয়ার কিছুদিন পর থেকে বরবটি ছেঁড়া শুরু হবে। ’ যোগ করেন নান্নু মিয়া।

স্থানীয় কৃষক আবদুস ছবুর বলেন, ‘এবার ১৫ গণ্ডা জমিতে বাঙ্গিচাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে উৎপাদন খরচ ওঠে গেছে। আরো কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকার বাঙ্গি বিক্রি করতে পারব। ’ একই এলাকার নুর আহমদ, জাফর আহমদ, নাজিম উদ্দিন, ওসমান গণিসহ আরো অনেকে বাঙ্গিচাষ করেছেন। উত্তর ছদাহার নুরুল আলম জানান, তিনি দেড় কানি জমিতে বাঙ্গিচাষ করেছেন। আরো সপ্তাহখানেক পর বাঙ্গি ছিঁড়তে পারবেন তিনি। তবে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন, অতি বৃষ্টি হলে বাঙ্গির ক্ষতি হবে।

নুরুল আলম জানান, এখানে দুই ধরনের বাঙ্গি উৎপাদিত হয়। এক জাতের বাঙ্গির খোসা খুব পাতলা এবং ভেতরের অংশ নরম। খাওয়ার সময় বালি বালি মনে হবে। মিষ্টি তুলনামূলক কম, তবে সুস্বাদু। অন্য জাতের বাঙ্গির ভেতরের অংশ শক্ত থাকে। খাওয়ার সময় বেশ মিষ্টি। দেশের অন্য অঞ্চলের বাঙ্গির চেয়ে এখানকার বাঙ্গি স্বাদে অতুলনীয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শোয়েব মাহামুদ জানান, সাতকানিয়ার বেশ কিছু এলাকায় বাঙ্গিচাষ হচ্ছে। বিশেষ করে, ছদাহা, কেঁওচিয়া, এঁওচিয়া, মাদার্শা ও চরতিতে বাঙ্গিচাষ হয়। কেউ অন্য ফসলের ‘সাথি ফসল’ হিসেবেও বাঙ্গিচাষ করেন। এখানকার মাটি বাঙ্গিচাষের উপযোগী। বাঙ্গিচাষে আগ্রহী কৃষকদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়।


মন্তব্য