kalerkantho


গ্রামের মানুষ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নাগাল পাচ্ছেন সহজে!

এস এম রানা   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে জনবল বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ৮৯ জন। আগে ছিল দুই হাজার ৫৮৫। সাত সার্কেল অফিসের মধ্যে চারটিতে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী পুলিশ সুপারের পরিবর্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এর ফলে সাধারণ মানুষ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নাগাল পাচ্ছেন সহজে! নিজের সমস্যার পাশাপাশি জানাতে পারছেন থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগও।

এর সত্যতা পাওয়া গেল সাতকানিয়ার কেরানিহাটের শিল্পপতি নিজাম উদ্দিনের কথায়। বলেন, ‘এতোদিন সাতকানিয়া সার্কেলে একজন সহকারী পুলিশ সুপার দায়িত্বে ছিলেন।

থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের অনেক ক্ষোভ-দুঃখ থাকে। এসব বলার জন্য মাঠপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন না। কেউ যদি কোনো অভিযোগ করতে চান তাহলে তাঁকে ৫০ কিলোমিটার দূরে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে যেতে হত। এখন সার্কেলে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছেন। ফলে আর শহরে দৌঁড়াতে হবে না।

এতে নিশ্চয় সাধারণের ভোগান্তি কমবে। সেবা প্রাপ্তিও সহজ হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা মতে সম্প্রতি পুলিশ বাহিনীতে ৫০ হাজার জনবল যোগ হয়েছে। এর ফলে জেলা পুলিশের কার্যালয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তাদের পদচারণা এতোদিন শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন তা গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন অনেক সার্কেল অফিসে সহকারী পুলিশ সুপারের পরিবর্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে গ্রামের মানুষ সহজেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হাতের নাগালে পাচ্ছেন। জানাতে পারছেন অভাব অভিযোগ। আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দেখা পেতে গ্রাম থেকে নগরীর জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আসতে হত। এখন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই অবস্থান করছেন গ্রামাঞ্চলে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, মামলার তদন্ত তদারকিসহ সার্বিকভাবে পুলিশের কাছ থেকে মানুষ আগের চেয়ে বেশি সেবা পাবেন বলে আশা পুলিশ কর্মকর্তাদের। আর সাধারণ মানুষ মনে করেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতের নাগালে পাওয়া গেলে সেবার মানও বাড়বে।

বাড়তি জনবল পাওয়ায় জেলা পুলিশ আগের চেয়ে ভালো সেবা দিতে পারছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. রেজাউল মাসুদ। বলেন, ‘কিছু দিন আগেও জেলা পুলিশে দুই হাজার ৫৮৫ জন জনবল ছিল। তা দিয়ে জেলার ১৬ থানা, চারটি সার্কেল, তদন্তকেন্দ্র ও ক্যাম্প কার্যক্রম চালাতে হয়েছে। সম্প্রতি জনবল ৫০৪ জন বেড়ে তিন হাজার ৮৯ জনে উন্নীত হয়েছে। ’

জনবল বাড়ার সুফল কী জানতে চাইলে তিনি জানান, আগে জেলার ১৬ থানা নিয়ে মাত্র চারটি সার্কেল অফিস ছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি মামলা সহকারী পুলিশ সুপারকে তদারকি করতে হয়। কিছুদিন আগেও উত্তর চট্টগ্রামের চারটি থানা নিয়ে হাটহাজারী সার্কেল ছিল। দক্ষিণে সাতকানিয়া সার্কেলভুক্ত ছিল তিনটি থানা। এসব থানার মামলা তদন্ত তদারকি করা একজন সহকারী পুলিশ সুপারের পক্ষে কঠিন ছিল।

নিবিড় তদন্ত তদারকি না হলে ন্যায়বিচার কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণে এখন চার সার্কেলকে ভেঙে সাতটিতে উন্নীত করা হয়। আগের পুরনো চার সার্কেলে চারজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সার্কেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সৃষ্ট সার্কেলগুলোতে সহকারী পুলিশ সুপাররা দায়িত্ব পালন করছেন। আগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ ছিল শুধু জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত।

এখন সেই প্রথা ভেঙে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পৌঁছে গেছেন সার্কেল কার্যালয়ে। ফলে সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে ভালো সেবা পাবেন।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমান জনবলের সঙ্গে নতুন যুক্ত হচ্ছে আরও চারজন করে অতিরিক্ত ও

সহকারী পুলিশ সুপার, ৫৩ পরিদর্শক, ১২১ এসআই, দুজন সার্জেন্ট, ১২০ এএসআই (নিরস্ত্র), ২০ জন এএসআই (সশস্ত্র), পাঁচজন এটিএসআই, চারজন নায়েক ও ১২৭ জন কনস্টেবল রয়েছেন। তাঁদেরকে জেলার ১৬টি থানা, ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা পুলিশ দপ্তরে পদায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া আগের সীতাকুণ্ড, রাউজান, পটিয়া ও সাতকানিয়া চারটি সার্কেলকে পুনর্গঠন করে সাতটিতে উন্নীত করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড সার্কেল থেকে আলাদা করে মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা নিয়ে মিরসরাই সার্কেল, পটিয়া ও সাতকানিয়া সার্কেল ভেঙে আনোয়ারা, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ থানা নিয়ে আনোয়ারা সার্কেল, হাটহাজারী থেকে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানাকে আলাদা করে রাঙ্গুনিয়া সার্কেল করা হয়েছে।  

সার্কেল পুনর্গঠনের পর সাতকানিয়া সার্কেলে প্রথম যোগদানকারী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে আগের চেয়ে বেশি সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সেই অনুযায়ী জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। ’


মন্তব্য