kalerkantho

26th march banner

ওরা সবাই ‘বঙ্গবন্ধু’

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ওরা সবাই ‘বঙ্গবন্ধু’

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সঙ্গে আয়োজকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

... শতাধিক প্রতিযোগীর মধ্যে চূড়ান্ত পর্বে স্থান পায় ১৫ শিক্ষার্থী। সবার গায়ে ছিল মুজিব কোট আর চোখে কালো চশমা। তর্জনি উঁচিয়ে সবার দরাজকণ্ঠে বেরিয়ে আসে, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম...। ’ আগামী শুক্রবার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ওই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে ...

 

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে স্কুলে স্কুলে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ। সংগঠনের নেতাদের দাবি, এমন আয়োজন দেশে এই প্রথম।

দুই দিন ধরে চলে প্রতিযোগিতা। ১১ মার্চ স্থানীয় একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রচার চালানো হয় জেলার স্কুলে স্কুলে। শতাধিক প্রতিযোগী থেকে চূড়ান্ত পর্বে স্থান পায় ১৫ শিক্ষার্থী। প্রতিযোগীদের সবার গায়ে ছিল সেই মুজিব কোট আর চোখে কালো চশমা। একেকজন যেন ‘ক্ষুদে বঙ্গবন্ধু’। তর্জনি উঁচিয়ে সবার দরাজকণ্ঠে বেরিয়ে আসে, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম...। ’

আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে ওই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওযা হবে।

প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘জাতির জনকের ঐতিহাসিক ভাষণেই রয়েছে মানবতার মুক্তি। সুন্দর দেশ ও জাতি গঠনের ডাক। এই ভাষণ শুনে আগামী প্রজন্ম হয়ে ওঠবে একেকজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাতির জনকের সেই ভাষণে বাঙালি জাতির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। তাই এই ভাষণের চর্চা যত বেশি হবে ততই শিশু-কিশোররা দেশ-জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ হবে। ’ উদ্যোগ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয় বলেন, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল চেতনা শিশু-কিশোরদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে দেশ ও জাতির সেবায় উজ্জীবিত করার মানসেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ’

জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসাইন তানিম বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় বেশ সাড়া পেয়েছি। এ রকম উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। ’

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের বিচারক প্রবীণ সাংবাদিক প্রিয়তোষ পাল পিন্টু বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। এতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ আর কেউ পাবে না। ’

বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ও শব্দায়ন একাডেমির পরিচালক জসিম উদ্দিন বকুল বলেন, ‘এমন প্রতিযোগিতায় রাজনীতিতেও শুদ্ধাচারের চর্চা শুরু হবে। এটি চমত্কার উদ্যোগ। ’

প্রতিযোগিতার উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হলো, শুধু ছেলেরা নয় মেয়েরাও অংশ নেয় এতে। চূড়ান্ত পর্বে ১৫ প্রতিযোগীর মধ্যে বেশ কয়েকজন মেয়ে ছিল।

এমনকি প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে কক্সবাজার কেজি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী হুসবিন আরোয়া দোলনা। আর দ্বিতীয় হয় ভারুয়াখালীর ডিসি কেজি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আবিদ শাহরিয়ার মাহমুদ অপি এবং তৃতীয় কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী তাজকিয়া বিনতে গিয়াস।

বিজয়ী মাদ্রাসাছাত্রী তাজকিয়ার বাবা মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নের সাপমারা ডেইলের বাসিন্দা সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি আমার ছেলে নিজে নিজেই মোবাইলে ভিডিও দেখে রপ্ত করেছে। ’

বিজয়ী তাজকিয়ার ভাষায়, ‘মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনেকে ভুল বুঝেন।

আজ আমি জাতির জনকের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে প্রমাণ দিলাম এদেশের নারীরা পিছিয়ে থাকবে না। পিছিয়ে থাকবে না মাদ্রাসাশিক্ষাও। ’

বিজয়ী ছয় বছর এক মাস বয়সের শিশু অপির মা মিলন আফরোজা খুকি বলেন, ‘আমার অবুঝ ছেলেটা বার বার জানতে চায় শেখ মুজিব কোথায়? বঙ্গবন্ধু কেন মারা গেলেন? বড় হয়ে আমি শেখ মুজিব হব। এভাবেই বলতে বলতে মোবাইলে সে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শিখেছে। ’

জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ গেল বছর দুই দিনব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এক কর্মসূচি পালন করে। এতে কয়েক হাজার ছাত্রলীগকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সংগঠনটির আরেক কর্মসূচি ছিল কক্সবাজার পাবলিক হল ময়দানে ‘শিক্ষার জন্য সমাবেশ’। এছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মানুষ তুমি মানুষ পোড়াও কোন মানুষের জন্য’ শিরোনামে আলোকচিত্র প্রদর্শনীও বেশ আলোচিত হয়।


মন্তব্য