kalerkantho


নাট্য নির্দেশনা

অসম্ভবকে সম্ভব করলেন মন্দিরা

আবৃত্তি আর অভিনয়ে সমান পারদর্শী তিনি। সম্প্রতি ফেনীর পঞ্চবটী সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাটক বিভাগের ‘ভেলুয়া সুন্দরী’ পালা নির্দেশনা দিয়ে ব্যাপক প্রশংসা পান।

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অসম্ভবকে সম্ভব করলেন মন্দিরা

‘ভেলুয়া সুন্দরী’ নাটকের একটি দৃশ্যে সহকর্মী অজয় দাসের সঙ্গে মন্দিরা বিশ্বাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

মফস্বলের নাট্যদল যেখানে নারীকর্মীই ঠিক মতো পায় না, সেখানে নারী নির্দেশক অনেকটা অসম্ভব! কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন ফেনীর মন্দিরা বিশ্বাস। আবৃত্তি আর অভিনয়ে সমান পারদর্শী মন্দিরা সম্প্রতি ফেনীর পঞ্চবটী সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাটক বিভাগের  ‘ভেলুয়া সুন্দরী’ পালা নির্দেশনা দিয়ে ব্যাপক প্রশংসা পান।

২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ হয় নাটকটি।

ফেনী শহরের উত্তর সহদেবপুরে মন্দিরার আবাস। বাবা মৃণাল কান্তি বিশ্বাস, মা বেলো রানী বিশ্বাসের দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে মন্দিরা সবার বড়। পড়াশোনা শেষ করে ২০১০ সাল থেকে ফেনী সদরের শর্শদি ইউনিয়নের দেবিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। মন্দিরা আবৃত্তি করেন ৭ম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে। পূবালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়কারী সমরজিৎ দাস টুটুলের হাতে তাঁর আবৃত্তির হাতেখড়ি। বিভিন্ন সময় রবিশঙ্কর মৈত্রী, মাহিদুল ইসলাম মাহি, কাজী মাহতাব সুমনের মতো গুণী শিল্পী ও প্রশিক্ষকদের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। পূবালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নাটক বিভাগের হয়ে কাজ করেছেন ‘এক ধামা আলু’, ‘পাইচো চোরের কেচ্চা’, ‘চোর’, ‘বাসন’, ‘সেনাপতি’, ‘বৌ’ আর ‘অহম তমসায়’ নাটকে। আনন জামান রচিত ও নির্দেশিত ‘অহম তমসায়’ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে মন্দিরা ফেনীর নাট্য দর্শকদের মনযোগ আকর্ষণে সক্ষম হন।

সর্বশেষ ‘ভেলুয়া সুন্দরী’ পালা নাটকে নির্দেশনার পাশাপাশি একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে দর্শক ও বোদ্ধাদের ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি।

মন্দিরা বলেন, ‘পঞ্চবটীর নাটক বিভাগের পরিচালক বিধান চন্দ্র শীল ও আরেক নাট্য সংগঠক পৃত্থীরাজ চক্রবর্তীর উৎসাহে নির্দেশনা দেওয়ার সাহস করেছি। শো শেষ হওয়ার পর দর্শক যখন দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিলেন, তখন কী যে ভালো লাগছিল তা বলে বোঝানো যাবে না। ’

‘একজন নারী নির্দেশক হিসেবে প্রথম নাটকেই দর্শকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি তা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। ’ যোগ করেন মন্দিরা। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান পঞ্চবটীর প্রধান সমন্বয়কারী বাদল দেবনাথ, সঙ্গীত বিভাগের প্রধান দোলন দাসসহ টিমের সকল সদস্যের প্রতি। মন্দিরা বলেন, ‘পঞ্চবটীর সাথে এটি আমার প্রথম কাজ। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আরো নির্দেশনা দেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। ’ পূর্ববঙ্গ গীতিকা অবলম্বনে রচিত ‘ভেলুয়া সুন্দরী’ নাটকে শুধু নির্দেশনা এবং অভিনয় নয়; নাটকের কোরিওগ্রাফি ও পোশাক নির্বাচনেও তিনি কাজ করেছেন যত্নের সাথে।

নাটকে সূত্রধরের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন নাট্য সংগঠক বিধান চন্দ্র শীল। তিনি বলেন, ‘আমরা একজন নারী নির্দেশককে তুলে আনতে চেষ্টা করেছি। কতটুকু পেরেছি, তার বিচার দর্শকরা করবেন। ’ মন্দিরার কাজে আমি অভিভূত। ’ ২০০০ সালে তাঁর নির্দেশিত ‘এক ধামা আলু’ দিয়ে মন্দিরার নাটকে যাত্রা শুরু হয় বলে জানিয়ে বিধান বলেন, ‘আর আজ তাঁর নির্দেশনায় আমি কাজ করেছি। এটা আমার জন্য এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ’

নাটকের আরেক অভিনেতা ও নাট্য-আবৃত্তি সংগঠক পৃত্থীরাজ চক্রবর্তী বলেন, ‘একেবারে শুরু থেকে নাটকের নির্দেশনার ব্যাপারে মন্দিরা খুবই সিরিয়াস ছিলেন। দলের সকলে চেষ্টা করেছি তাঁকে যতদূর সম্ভব সহায়তা দিতে। সব মিলিয়ে আমরা একটি ভালো প্রদর্শনী করতে পেরেছি। ’

অনুভূতি জানাতে গিয়ে মন্দিরা বলেন, ‘আসলে এমন একটি পালানাটক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তৈরি ছিলাম না। কিন্তু বিধানদা, পৃত্থীদাসহ সকলে উৎসাহ দিলেন, সাহস দিলেন-তাই চেষ্টা করলাম। সবার যে সহায়তা পেয়েছি, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। ’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রদর্শনীর পর দর্শকের ভালো ভালো মন্তব্য শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। ’

নাটকটিতে মন্দিরা ছাড়াও অভিনয় করেন বিধান চন্দ্র শীল, পৃত্থীরাজ চক্রবর্তী, অজয় নাথ, রাজীব চন্দ্র দাস, দেবশ্রী দেব তিন্নী ও সোমা নাগ। সঙ্গীতে দোলন দাস, আলোক পরিকল্পনায় শাহরিয়ার আরিফ, পোশাকে মন্দিরা ও বিপাশা রায় কাজ করেন। চলতি বছরে নাটকটির বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হবে বলে জানান নাটক বিভাগের পরিচালক বিধান চন্দ্র শীল।


মন্তব্য