kalerkantho


বৈষম্য

নারীর বেতন পুরুষের অর্ধেক

জাকির হোসেন, দীঘিনালা   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নারীর বেতন পুরুষের অর্ধেক

পাহাড়ি এলাকায় তামাকচাষে নিয়োজিত শ্রমিকদের অধিকাংশ নারী। তামাকচাষ অনেকটা নারী শ্রমিক নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও শ্রমবৈষম্যের শিকার তাঁরা।

দ্বিগুণ সময় ও শ্রম দিলেও পুরুষের অর্ধেক বেতন পান নারী।

এক সময়ে সবজিচাষের জন্য বিখ্যাত খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এখন আর সবজিচাষ নেই বললেই চলে।

রবিশস্য চাষের সব জমি তামাকের দখলে। আর তামাকচাষ নির্ভর হয়ে পড়েছে নারী শ্রমিকের ওপর। চাষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে কিছুসংখ্যক পুরুষ চোখে পড়লেও বেশির ভাগ নারী শ্রমিক। মাঝে মধ্যে শিশুশ্রমিকও চোখে পড়ে। দারিদ্র্যতার কশাঘাতে নিষ্পেষিত হয়ে শ্রম বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন নারীরা। দিন দিন নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়লেও বাড়ছে না তাঁদের মজুরি। উল্টো বিনা মজুরিতে প্রয়োজনের সময় গভীর রাত অবধি কাজ করিয়ে নেওয়া হয় নারী শ্রমিকদের দিয়ে।

কম মজুরির সুবিধায় মূলত তামাকচাষিরা নারী শ্রমিক দিয়ে কাজ করান। একজন পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা। একই কাজে নিয়োজিত একজন নারী শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১৭০ থেকে ২০০ টাকা। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকাতে মজুরি আরো কম।

তামাক চারা রোপণ, পাতা তোলা ও বাছাই করে গোছানো সব কাজেই নিয়োজিত আছেন নারী শ্রমিক। চুল্লিতে পাতা শুকানোর সময় এবং শুকনো পাতা বাছাই করার সময় নির্দিষ্ট মজুরির বিনিময়ে গভীর রাত অবধি কাজ করতে হয় তাঁদের। যা পুরুষ শ্রমিকদের দ্বারা করানো সম্ভব হয় না।

নারীশ্রমিক ফাতেমা খাতুনসহ অনেকে জানান, তামাক চারা রোপণ, তামাকপাতা তোলা, গোছানো ও চুল্লিতে শুকানোর পর তামাক পাতা বাছাই করার কাজে পুরুষরা নারীর চেয়ে দ্বিগুণ কাজ করে না। তবু পুরুষের বেতনের অর্ধেক বেতন দেওয়া হয় নারীদের। এমনকি প্রয়োজনে গভীর রাত অবধি কাজ করানো হলেও অতিরিক্ত বেতন দেওয়া হয় না। শ্রম বৈষম্যের শিকার হয়েও পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হয় তাঁদের।

মেরুং ইউনিয়নের দুর্গম লম্বাছড়া ত্রিপুরাপাড়ার তামাক চাষি সুনিল চাকমা জানান, তিনি এ বছর দুই একর জমিতে তামাকচাষ করেছেন।

তিনি পুরুষের বেতন দেন ২০০ টাকা আর নারী শ্রমিকের বেতন দেন ১০০। অবশ্য শ্রম বৈষম্যের বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলার মধ্য বেতছড়ির তামাকচাষি মোহাম্মদ আলি বলেন, ‘শুধু নারী নয় পুরুষের বেতনও কম-বেশি আছে।

মূলত কে কতটুকু কঠোর পরিশ্রম করতে পারবেন এর ওপর নির্ভর করে বেতনের পরিমাণ। ’


মন্তব্য