kalerkantho


ফুলঝাড়ুর বাণিজ্যিক আবাদ

জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পরিকল্পিতভাবে ফুলঝাড়ুর বাণিজ্যিক আবাদ হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে ফুলঝাড়ু উৎপাদন হলেও নির্বিচারে বন নিধনের কারণে কমে যাচ্ছে।

এদিকে ফুলঝাড়ু চাষে সাধারণ কৃষকের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করতে কাজ করছে বাংলাদেশ বনচাষ গবেষণা ইনস্টিটিউট।

সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া বনচাষ গবেষণা কেন্দ্রে ফুলঝাড়ুর পরীক্ষামূলক আবাদ হয়েছে। উৎপাদনও আশানুরূপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ বনচাষ গবেষণা ইনস্টিটিউটের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ফুলঝাড়ু গবেষক জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে জানান, দেশে-বিদেশে ফুলঝাড়ুর বিপুল চাহিদা রয়েছে।

এছাড়া পাহাড়ে বসবাসকারী প্রাণিজগতের খাবার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফুলঝাড়ু অত্যন্ত সহায়ক। এটি হাতির প্রিয় খাবারও।

আর ঘরের ছাউনি, জ্বালানি, ঝাড়ু ও দালানে রঙ করার কাজে ব্যবহৃত হয় ফুলঝাড়ু। তিনি বলেন, ‘দেশে চার জাতের ফুলঝাড়ু রয়েছে। বিনি, হরিনা, জাতি ও মৈশ্যা।

এর মধ্যে বিনি সবচেয়ে ভালো। ওই জাতের ফুলের চাহিদা ও দাম একটু বেশি।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিনি জাতের ফুলঝাড়ু বেশি পাওয়া যায়। তবে নির্বিচারে বন নিধনের ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় এই ফুলঝাড়ু। ’

চট্টগ্রাম রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো অফিস সূত্রমতে, সীমিত পরিসরে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যে ফুলঝাড়ু রপ্তানি হয়। তবে পাহাড়ি এলাকায় ফুলঝাড়ুর উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিগত কয়েক বছর রপ্তানির পরিমাণ কমে গেছে।

জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় ফুলঝাড়ু উৎপাদন হয়।

একেক জায়গায় একেক জাতের ফুল বেশি উৎপাদন হয়। বিনি জাতের ফুল সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় বাঁশখালীতে। ফুলঝাড়ু চাষের সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হলো চাষাবাদের জন্য আলাদা জায়গার দরকার হয় না।

অন্য গাছের বাগানেও খুব সহজে এটির আবাদ করা সম্ভব। আর রোপণ করার প্রথম বছর থেকে কাঠি সংগ্রহ করা যায়।

এসব ফুলঝাড়ু ঝোপ-ঝাড়ে বেশি উৎপাদিত হয়।

সাতকানিয়ার কেরানিহাটে ফুলঝাড়ু বিক্রি করতে আসা বাজালিয়ার ছালেহ আহমদ ও শফিকুর রহমান জনান, তাঁরা বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুলঝাড়ু কেটে বাজারে বিক্রি করেন। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী বান্দরবানে গিয়ে ফুলঝাড়ু কিনেন।

সেখানে বিক্রি করলে দাম একটু কম পাওয়া যায়। তাই বিভিন্ন হাট-বাজারে ফুলঝাড়ু বিক্রি করেন তাঁরা।

বিক্রেতা কবির আহমদ, সৈয়দ কবির, আমেনা বেগম, নুর জাহান ও বুলু আকতার জানান, তাঁদের কেউ কেউ পাহাড় থেকে কেটে এনে বাজারে বিক্রি করেন ফুলঝাড়ু।

আবার অনেকে পাহাড়ে যাঁরা এসব ফুল কাটেন, তাঁদের কাছ থেকে কিনে বাজারে বিক্রি করেন।

নুর জাহান ও আমেনা বেগম বলেন, আমরা একেক সময় একেক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি।

ফুলঝাড়ুর মৌসুম এলে পাহাড় থেকে কেটে বাজারে বিক্রি করি।

কিনতে আসা সাতকানিয়ার কেঁওচিয়ার হাবিবুর রহমান ও দিলোয়ারা বেগম জানান, তাঁরা প্রতিকাঠি দুই টাকা দরে ফুলঝাড়ু কিনেছেন।


মন্তব্য