kalerkantho


রাজনীতি

অস্তিত্ব সংকটে বিএনপি

বোয়ালখালীতে বিএনপির কোনো তত্পরতা নেই বললেই চলে। নেতাকর্মীরা ভীষণ হতাশ। অপরদিকে আওয়ামী লীগ মাঠে সরব থাকলেও নেতাকর্মীদের মাঝে দলাদলি চরমে। প্রতিবেদন : নজরুল ইসলাম, বোয়ালখালী

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বোয়ালখালীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। মাঠে নেই নেতাকর্মীরা।

দলীয় কোনো কর্মসূচিও পালন করতে দেখা যায় না কাউকে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বোয়ালখালীর ফুলতলীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নুরুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক লীগ কর্মী মারা যান। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা হয় থানায়। এর পর থেকে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি দলটি।

পরে অবশ্য তাঁরা নিজেরাই দলাদলিতে জড়িয়ে পড়েন। একপক্ষের নেতৃত্বে আছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান। অন্যপক্ষে এরশাদ উল্লাহ সমর্থিতরা। ফলে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে দলের মাঠ পর্যায়ে।

দল ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছর ধরে উপজেলায় বিএনপির কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়নি। এই কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। এই অবস্থায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি গত ইউপি নির্বাচনের পর মোরশেদ খান সমর্থিত মোস্তাক আহমদ খানকে সভাপতি ও করলডেঙা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ মান্নানকে সাধারণ সম্পাদক করে বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন করে। এই কমিটিও মোরশেদ খান পক্ষের অন্য দুটি অংশ মেনে নেয়নি। এতে দলীয় কোন্দল আরো তীব্র আকার ধারণ করে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহমদ খলিল খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বদরুছ মেহের, সাবেক আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন খান মুকুল, যুবদলের সাবেক সভাপতি নুরনবী চৌধুরীসহ অনেকে ওই কমিটির বিরোধিতা করায় তৃণমূলে এর প্রভাব পড়ে। এতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন। এছাড়া বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র হাজী আবুল কালাম আবুকে সভাপতি ও এরশাদ উল্লাহ পক্ষ থেকে এনে ইসহাক চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে গত বছর পৌরসভা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতেও দলাদলি আরো ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, উপজেলা সদর বা পৌরসদরে বিএনপি বা তাদের অঙ্গসংগঠনের কোনো কার্যালয় নেই অনেক বছর। এ নিয়ে আক্ষেপ-হতাশা রয়েছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে।

কোন্দল প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরশাদ উল্লাহ বর্তমানে দলের কেউ নন। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করব না। এছাড়া দলের কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা কমিটি। তবে বিষয়টি যেহেতু আমার নির্বাচনী এলাকায় তাই অনেক সময় আমার মতামতও নেওয়া হয়। ’

নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বোয়ালখালী আসনে দলের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কমিটি গঠন করে বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আর আমিও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থেকে রাজনীতি করাকে বিশ্বাস করি। কেউ আমার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করল কিনা সেটি ভাবার সময় নেই। ’

 


মন্তব্য