kalerkantho

রাজনীতি

আওয়ামী লীগে দলাদলি

বোয়ালখালীতে বিএনপির কোনো তত্পরতা নেই বললেই চলে। নেতাকর্মীরা ভীষণ হতাশ। অপরদিকে আওয়ামী লীগ মাঠে সরব থাকলেও নেতাকর্মীদের মাঝে দলাদলি চরমে। প্রতিবেদন : নজরুল ইসলাম, বোয়ালখালী

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকায় উপজেলায় ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ রয়েছে আওয়ামী লীগের। তবে দলীয় কোন্দলও হয়েছে তীব্র।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে দল ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বোয়ালখালী আওয়ামী লীগ নব উদ্যোমে মাঠ দখলের প্রতিযোগিতায় নামে। এতে পুরনো দলীয় কোন্দল আবার নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এখানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কুয়েতের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম দলের দুই পক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তবে ২০০৯ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন উদ্দিন খান বাদল এমপি নির্বাচিত হওয়ায় দৃশ্যপট অন্যমাত্রা পায়। ওই বছরের ১৪ নভেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হকের উপস্থিতিতে মঈন উদ্দিন খান বাদল ও মোছলেম উদ্দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর পর থেকে তাঁদের সম্পর্ক ‘সাপে-নেউলে’ হয়ে ওঠে। এর পর থেকে বাদল প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম পক্ষের সঙ্গে রয়েছেন। আর এর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মোছলেম উদ্দিন পক্ষের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার ও হামলার ঘটনা ঘটান। গত বছর বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মঞ্চ দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়।

গত একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ বেদিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোছলেম পক্ষের নেতাকর্মীরা কালাম পক্ষের ওপর হামলা চালালে শহীদ দিবসের পুরো অনুষ্ঠান ভণ্ডুল হওয়ার উপক্রম হয়। সরকারি দলের কোন্দলে পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনও বিব্রত।

জানা গেছে, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ কোন্দল নিরসনের চেষ্টা না করে গত বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দেড় যুগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেন। নুরুল আমিন চৌধুরীকে সভাপতি ও এস এম জহিরুল আলম জাহাঙ্গীরকে সাধারণ সম্পাদক করে মোছলেম পক্ষ নতুন কমিটি ঘোষণা করে। কয়েকদিন পর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঘটা করে অনুষ্ঠান করে কালাম পক্ষ আহমদ হোসেনকে সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা এস এম সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে। এতে সরকারি বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও অনুষ্ঠানে তাদের দাওয়াত দেওয়া ও আসন বিন্যাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

মোছলেম উদ্দিন সমর্থিত বোয়ালখালী আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক ও সাংগঠনিকভাবে আমাদের নতুন কমিটি জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত। আমরা মাঠে কাজ করছি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণে গৃহীত কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাতে সহায়তা করে যাচ্ছি। ’

আবুল কালাম সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেন বলেন, ‘দলীয় গঠনতন্ত্রবিরোধী কমিটি হওয়ায় তা সাধারণ নেতাকর্মীরা প্রত্যাখ্যান করে আমাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের মৌলিক কাজ হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশব্যাপী যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে তা বোয়ালখালীর প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি স্থানীয় এমপির মাধ্যমে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। ’


মন্তব্য