kalerkantho


চা বাগানের পাশে ইটভাটা

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



উপজেলার চাঁনপুর-বৈলগাঁও চা বাগানের পাশেই গড়ে ওঠেছে অবৈধ ইটভাটা। এতে পোড়ানো হচ্ছে সংরক্ষিত বনের কাঠ। আর ইটভাটায় ট্রাকের চলাচলে এবড়ো-খেবড়ো হয়ে গেছে সড়ক। জনদুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার মাঝখানে বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামে গড়ে ওঠেছে ইটভাটাটি। এটির মালিক বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামের চৌধুরী ব্রিক্সের মালিক মর্তুজা আলী চৌধুরী।

সরেজমিন দেখা যায়, চা বাগানটি প্রায় ৩৬৬২ একরের। এর পাশেই বিস্তীর্ণ লোকালয় ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বনে পাখির কিচির-মিচির শব্দ। ওই এলাকায় আছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা আর পাঁচটি মুরগির খামার। বাগানের চতুর্পাশে এমন মনোরম পরিবেশ।

এলাকাটি ইতোমধ্যে আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে উপজেলাবাসীর কাছে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। প্রায়ই দেশ-বিদেশের পর্যটকের আগমন ঘটে এই চা বাগানে।

সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাকিম হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘গ্রামবাসী আন্দোলন করেও এই ইটভাটা বন্ধ করতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরে সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর মাঝখানে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ রয়েছে। হঠাৎ ইটভাটাটি স্থাপন করায় পরিবেশ ধ্বংস হতে চলছে। ’

পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বলেন, ‘নতুন গড়া ওই ইটভাটা স্থাপনে আমি কোনো ধরনের অনুমতিপত্র দিইনি। অবৈধ এই ইটভাটার ব্যাপারে আমি স্থানীয় প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। ’

চানপুর-বৈলগাঁও চা বাগানের ব্যবস্থাপক আবুল বশর বলেন, ‘রাতারাতি গড়ে ওঠা ইটভাটাটি উচ্ছেদ করা না হলে ৩ হাজার ৬৬২ একর বিস্তৃত চা বাগানে ভবিষ্যতে চা উৎপাদনে ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারে। বিষয়টি শিগগিরই জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানাব। ’

সাতকানিয়া উপজেলার তুলাতলী গ্রাম ও বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান, আবু তালেব, তপন ধর, নয়ন ধর ও রাসেল ইকবাল বলেন, আমরা আন্দোলন করে ইটভাটা বন্ধ করতে পারছি না। মনে হচ্ছে দেশে প্রশাসন বলতে কিছু নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর কাজের কাজ কিছুই করে না। এই ইটভাটার কারণে কয়েকদিনের মধ্যে মানুষের জীবনে অন্তহীন দুর্ভোগ নেমে আসবে।

ওই ইটভাটার মালিক মর্তুজা আলী চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন স্তরের প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের টাকা দিয়েই ইটভাটা করেছি। ঘুষ দিলেই ইটভাটা করার ছাড়পত্র প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আমার পকেটে এনে দেয়। পরিবেশ দেখা আমার বিষয় না। এটি পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ। বাঁশখালীতে একটা ইটভাটারও অনুমতি নেই। তবু চলছে। আমরা ইটভাটার মালিকরা টাকা দিয়েই প্রশাসনের চোখ অন্ধ করে রেখেছি। ’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তরী বলেন, ‘আমি পৌর এলাকায় একটা ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছি। পুকুরিয়ায় নতুন ইটভাটা হয়েছে সেটি এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। এখন জানতে পেরেছি শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইটভাটা বন্ধের ব্যাপারে গ্রামবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে কেউ পরিবেশ ধ্বংস করে ইটভাটা করার সাহস পাবে না। ’

বাঁশখালীর উত্তরাঞ্চলের বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, ‘পুকুরিয়ায় স্থাপিত ইটভাটার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইটভাটার মালিকদের ক্ষমতার দাপটের কাছে লোকবল সংকটের কারণে আমরা অসহায়। বিষয়টি নিয়ে সর্বস্তরের প্রশাসনের এক হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ’


মন্তব্য