kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন আজ

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বিদ্যুৎ পেল থানচি

মনু ইসলাম, বান্দরবান   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে বান্দরবানের থানচি। আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

এর মধ্য দিয়ে থানচিবাসীর জীবনে সূচিত হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে গেল দেশের সবচেয়ে দুর্গম জনপদেও।

থানচি উপজেলার স্থানীয় বাজারে কম্পিউটার সেন্টারের মালিক অনুপম মারমা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এতদিন আমরা জেনারেটরচালিত ব্যয়বহুল ও স্বল্পায়ুর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছি। ১ মার্চ থেকে পাব সরকারি বিদ্যুৎ। দেশের অন্য সব এলাকার মত দেশের দুর্গমতম উপজেলা থানচিও জাতীয় গ্রিড লাইনে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। তাই আমরা বৈদ্যুতিক আলো জ্বালানোর রোমাঞ্চকর প্রতীক্ষায় আছি। ’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী উজ্জ্বল বড়ুয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সংযোগ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর পরই থানচি উপজেলার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে থানচি এলাকায় বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, ট্রান্সফরমার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে থানচি উপজেলা সদর, বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ার্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, উপজেলা পরিষদ এবং বলিপাড়া বাজার থেকে থানচি পর্যন্ত সড়ক পথের কাছাকাছি গ্রামগুলোকে বিদ্যুতায়নের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরো জানান, প্রায় ৫ এমভিএ (৪ ইন্টু ওয়ান পয়েন্ট সিক্স সেভেন বাই টু পয়েন্ট টু থ্রি এমভিএ) মেগা ভোল্ট এমপিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ দিয়ে ছোট থেকে মাঝারি পর্যায়ের শিল্প-কারখানাও চালানো যাবে। এর ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের প্রসারেও বিশেষ অবদান রাখবে বিদ্যুৎ।

বান্দরবান জেলা শহর থেকে এক সময় থানচি যেতে সময় লাগতো চার থেকে পাঁচ দিন। ইঞ্জিনচালিত বোট আসায় লাগতো দুই দিন। তখন পর্যন্ত যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল নদীপথ। এখন নির্মিত হয়েছে ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কপথ। এ পথে গাড়িতে চড়ে দুই ঘণ্টায় পৌঁছা যায় থানচি।

এক সময়কার দুর্গমতম উপজেলা থানচি যাওয়ার পথে আছে বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র। দেশের সবচেয়ে উঁচু অবকাশ কেন্দ্র ‘নীলগিরি রিসোর্ট’, বেসরকারি রিসোর্ট ‘সাইরু’ এবং চিম্বুক পাহাড় চূড়া ও শৈলপ্রপাত (পাহাড়ি ঝর্ণা)। তিন বছর আগে থানচি থেকে আলীকদম পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের সর্বোচ্চ সড়কপথ।

থানচি বাজার থেকে শঙ্খ নদীর উৎস মুখ যেতে রয়েছে তিন্দু পয়েন্টে পাথুরে জলপথ, রেমাক্রি জলপ্রপাত, নাফা খুমসহ আছে আরো নতুন নতুন পর্যটন স্থান।

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এসব সুযোগ সুবিধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে থানচি উপজেলা হয়ে ওঠবে পর্যটন খাতে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল। জাতীয় গ্রিড লাইনে সংযুক্ত নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এই সম্ভাবনাকে আরো গতিশীল করবে।

 


মন্তব্য