kalerkantho


এক মাসেও মেলে না বিদ্যুৎ সংযোগ

রাশেদুল তুষার   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বহুতল ভবনের বর্ধিত অংশে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ২২ জানুয়ারি যাবতীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করেন পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, রামপুরের গ্রাহক আবদুর রহমান (ছদ্মনাম)। এর ঠিক ৩৩ দিন পর পিডিবি থেকে তাঁর মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) আসে। এতে বলা হয়, তাঁর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে একটি দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংযোগস্থল সার্ভে করার জন্য। অর্থাৎ সংযোগ পেতে অপেক্ষায় থাকতে হবে আরো কিছুদিন। অথচ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ফেব্রুয়ারি থেকে যেদিন আবেদন সেদিনই বিদ্যুৎ সংযোগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রামে মন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ চোখে পড়ল না ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে।

গত ২১ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘আবাসিক সংযোগের ক্ষেত্রে যেদিন আবেদন সেদিনই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই নীতি অনুসরণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। ’

তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্মকর্তারা মনে করেন, বর্তমান পদ্ধতিতে মন্ত্রীর ওই ঘোষণার বাস্তবায়ন অনেকটা অসম্ভব। পল্লী বিদ্যুৎ চাইলে এক থেকে  দুই দিনের মধ্যে সংযোগ দিতে পারলেও পিডিবির ক্ষেত্রে আপাতত এ নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন খোদ পিডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, পিডিবির বর্তমান পদ্ধতিতে এক বা দুই দিনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ কেউ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করলে তা নথিবদ্ধ হওয়ার পর জমা দেওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে মাঠ পর্যায়ে সার্ভে করতে লোক পাঠানো হয়। তাঁর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ফি জমা নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বিবেচনা করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অবশ্যই কিছু সময় লাগে।

তবে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগের ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘গ্রামে সবাই বাড়ির মালিক। ফলে বাড়ির দলিলপত্র নিয়ে সার্ভে করার কিছু নেই। কিন্তু শহরে বাড়ি মালিকের পাশাপাশি অনেকে আছেন ভাড়াটিয়া। সংযোগের সাথে জমা দেওয়া তাঁদের জমির দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করতে হয়। এছাড়া তাঁদের আগের সংযোগের কোনো বকেয়া আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে হয়। ’

পিডিবির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম পিডিবিতে শতভাগ প্রি-পেইড মিটারিং ব্যবস্থা চালু হলে এক কিংবা দুই দিনেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। আগেই যেহেতু বিল নিয়ে নেওয়া হবে তাই বকেয়া থাকার সুযোগ নেই। ’

পিডিবির কর্মকর্তারা বলেন, মন্ত্রী হয়তো তাত্ক্ষণিক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পিডিবির জনবল সংকট লেগেই আছে। মিটার রিডারের অভাবে এখনো গড় বিল দিতে হয়। সেখানে হঠাৎ করে বিশাল লাফ দেওয়া সম্ভব নয়। বরং ধীরে ধীরে সেবার উন্নতির দিকেই মনযোগ দেওয়া উচিত।

তবে এর মধ্যেই মন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি একদিনে গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। টাকা জমা দেওয়ার পর একদিনেই সংযোগ পেয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম।

পিডিবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার বাড়ার সাথে সাথে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে সমানে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), দক্ষিণাঞ্চলের গত জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ মাসে ৩১ হাজার ৩৭০টি নতুন সংযোগের আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ প্রতিমাসে গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার আবেদন জমা পড়েছে নতুন সংযোগের জন্য।

পিডিবি কর্মকর্তাদের মতে, সামপ্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে। জানুয়ারি মাস পর্যন্ত পিডিবির আওতাধীন পাঁচটি জোনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৯ টি সংযোগ রয়েছে পিডিবি, দক্ষিণাঞ্চলে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিডিবি, দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন বিদ্যুৎ গ্রাহক বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ। বর্তমানে আবাসিক সংযোগের ক্ষেত্রে আবেদনের ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে শিল্প-কারখানায় এর চেয়ে কিছু বেশি সময় লাগছে। ’

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার ব্যাপারে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘হয়তো বিশেষ ক্ষেত্রে এটা সম্ভব। কিন্তু সবার জন্য এটা বাস্তবায়নে আরেকটু সময় লাগবে। ’

 


মন্তব্য