kalerkantho


কক্সবাজার

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ‘বদলি বাণিজ্য’

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদায়ন-বদলি নিয়ে চলছে ‘বাণিজ্য’।

একেকজন শিক্ষকের কাছ থেকে ৭০ হাজার থেকে লাখ টাকা করে নেওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের রামু প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়েও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। পছন্দের স্থানে বদলির কথা বলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে বদলি করতে না পেরে কয়েকজনের টাকা ফেরত্ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য দফায় দফায় রামু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান এক বছরের বেশি সময় ধরে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির নানা অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিধি মতে, বছরে প্রাথমিক শিক্ষায় তিনটি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিমাসে একটি করে বছরে ১২টি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করেছেন।

তিনি প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে পাঠান উপজেলা শিক্ষা অফিসে। সেখান থেকে স্কুলের শিক্ষকরা এসব প্রশ্নপত্র কিনে নিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করেন।

কক্সবাজার সদরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই পদ্ধতিতে আমরা প্রতিসেট প্রশ্ন কিনে নিই পাঁচ টাকা করে। অথচ সেট প্রতি খরচ হয় দুই থেকে আড়াই টাকা। উদ্ধৃত্ত টাকা পৌঁছে যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পকেটে। ’

রামু উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রাথমিক শিক্ষক বলেন, ‘কক্সবাজার জেলায় দুই লক্ষাধিক প্রাথমিক শিক্ষার্থী রয়েছে। জনপ্রতি প্রশ্ন সরবরাহ বাবদ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এক টাকা করে পেলেও প্রতিটি পরীক্ষায় দুই লাখ টাকা আয় করে থাকেন। এভাবে বছরে ২৪ লাখ টাকা পরীক্ষা বাণিজ্য থেকেই আয় করেন তিনি। ’

সর্বশেষ, কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ‘বদলি বাণিজ্য’ থেকে শিক্ষকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

এদিকে, খোদ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগে দরদাম করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। গত রবিবার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক-ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করেন। সভায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই দুর্নীতি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

রামু উপজেলা চেয়ারম্যান ওই সভায় বলেন, ‘একজন জেলা পর্যায়ের সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কী ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় নিতে পারেন সে রকমের অকাট্য প্রমাণ আমার নিকট রয়েছে। কর্মকর্তা বদলির নামে আমার উপজেলার প্রতিজন শিক্ষকের নিকট থেকে ৭০ হাজার টাকা থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। ’

উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ‘জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরকারি পরিপত্র অমান্য করেই অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে বদলি ও নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন। ’

রিয়াজ উল আলম বলেন, ‘আগামী মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে অবসরকালীন ছুটিতে যাবেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এজন্য তিনি ডানে-বামে যা-ই পাচ্ছেন তাই হাতিয়ে নিচ্ছেন। ’

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘আমি রবিবারের সভায় উপস্থিত ছিলাম না। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয় শিক্ষা কর্মকর্তার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি বিধি বিধান মেনেই যা করার তাই করছি। আর অতিরিক্ত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। শিক্ষা নিয়ে আমি বাণিজ্য করি না। ’

 


মন্তব্য