kalerkantho


চট্টগ্রাম কলেজ

ছাত্রলীগ ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিলেও কমিটি করতে পারেনি অন্তর্কোন্দলে

নূপুর দেব   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ছাত্রলীগ ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিলেও কমিটি করতে পারেনি অন্তর্কোন্দলে

চট্টগ্রাম কলেজে আবার আধিপত্য ফিরে পেতে সংগঠিত হচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রায় তিন দশক পর ওই কলেজ সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ‘নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করে। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রশিবিরকে বিতাড়িত করে ছাত্রলীগ। কিন্তু এরই মধ্যে এক বছর দুই মাস অতিবাহিত হলেও অন্তর্কোন্দলের কারণে কমিটি গঠন করতে পারেনি ছাত্রলীগ।

প্রায় ১৪৮ বছরের প্রাচীন সরকারি এই কলেজে এখন ছাত্রলীগের আধিপত্য থাকলেও সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে বলে সংগঠনের নেতারা জানান। অন্যদিকে, নতুন করে সংগঠন গোছানোর মিশন নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে প্রায় তিন দশক ক্যাম্পাসে টানা রাজত্বে থাকা ছাত্রশিবির। কয়েকদিন আগে তারা চট্টগ্রাম কলেজে নতুন কমিটি ঘোষণা করে। শিবির শুধু কলেজ শাখা নয়, কলেজের সব বিভাগে কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এসব কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাশাপাশি কলেজে সাংগঠনকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও। সমপ্রতি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম কলেজ কমিটি করেছে।

আরো কয়েকটি ছাত্রসংগঠন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করলেও ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে থাকা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের অভিভাবকরা (আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ) চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনে কেন উদাসীন তা বুঝতে পারছি না। দীর্ঘ ২৯ বছর পর আমরা কলেজের নিয়ন্ত্রণ পেলেও কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে শিবির হামলা চালায়। এর পর আমরা সংগঠিত হয়ে ওই দিনই শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করি। ’

তিনি জানান, ১৯৮৬ সালের পর ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ঢুকতে পারেনি। শিবিরের ক্যাডার ও অস্ত্রের ঘাঁটি ছিল ক্যাম্পাসের হলগুলো। মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রভাবশালী এক নেতার দিকনির্দেশনায় ক্যাম্পাসে শিবিরকে বিতাড়িত করে ছাত্রলীগ ঢুকলে তখনও সেখানে অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনকে কাছে পাওয়া যায়নি। আর এখন সবাই কমিটি করছে আর ছাত্রলীগ কমিটি করতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের আরেক নেতা বলেন, ‘শিবির মানেই আতংকের নাম। এরা বিভিন্নভাবে সক্রিয় হয়ে কলেজ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আমরা কমিটি করতে না পারায় সংগঠনের ক্ষতি হচ্ছে। কমিটি না থাকায় দিন দিন নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। সামনে যদি কোনো কারণে ছাত্রলীগকে একবার ক্যাম্পাস ছাড়া হতে হয় ভবিষ্যতে কতো বছর পর সেখানে ছাত্রলীগ ঢুকতে পারবে তা কেউ বলতে পারবে না। ’

১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন পর ছাত্রলীগ ঢুকতে পারলেও অনৈক্যের কারণে কমিটি হচ্ছে না। এতে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ কমিটি যদি করতে না পারে দুঃসময়ে এই সংগঠনের কি হাল হতে পারে তা ভেবে অবশ্যই জরুরি ভিক্তিতে কমিটি গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। ’

নাম প্রকাশ না করে কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চট্টগ্রাম সফরকালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি নির্দেশনা দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম ও মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি করার জন্য। কিন্তু সেই নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম কলেজ শাখা সমপ্রতি নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। এতে ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আশরাফুল আলম ইমনকে সভাপতি ও গণিত বিভাগের মাসুম বিল্লাহকে সেক্রেটারি করা হয়। এছাড়া কলেজের প্রতি বিভাগে (বিষয়) আলাদাভাবে সভাপতি ও সেক্রেটারি দিয়ে ২০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে, আবু বক্কর সিকদারকে আহ্বায়ক করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ঘোষণা করা হয়েছে। আইনুদ্দিনকে আহ্বায়ক করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ১১ সদস্যে বিশিষ্ট আংশিক কমিটি করেছে। এছাড়া, ইসলামী ছাত্রসেনাও কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম কলেজে কমিটি করেছে।

উল্লেখ্য, ১৮৬৯ সালে নগরের চকবাজার এলাকায় চট্টগ্রাম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে কলেজে এইচএসসি, অনার্স, মাস্টার্স, ডিগ্রি (পাস)সহ বিভিন্ন কোর্স মিলিয়ে ১৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।

 


মন্তব্য