kalerkantho

লুট হচ্ছে গরু-ছাগলও

সাতকানিয়া প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



টাকা, সোনার অলংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্রের পাশাপাশি গৃহপালিত গরু-ছাগলও লুট হচ্ছে। চন্দনাইশের দোহাজারীর তিন স্থানে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ডাকাতির ঘটনায় গরু-ছাগলসহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট হয়।

এ সময় ডাকাতের গুলিতে এক গৃহকর্তা আহত হন। গত রবিবার রাতেও দোহাজারীর জামিজুরী থেকে লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আটটি গরু লুট করে ডাকাতদল।

এসব ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গরু-ছাগল লুট ডাকাতদের নতুন কৌশল। আগে ডাকাতরা টাকা-পয়সা ও সোনার অলংকার লুট করত। ইদানীং গরু-ছাগলও লুট করছে। ’

ওসি জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই ডাকাত চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

দোহাজারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল উদ্দিন এবং ডাকাতকবলিত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক দুটার সময় ১২-১৩ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল জামিজুরীর ডা. নুর আহমদের বসতঘরে হানা দেয়। এ সময় ডাকাতরা ঘরের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ পাঁচ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল সেট, একটি গাভি ও একটি বাছুরসহ দেড় লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

পরে ডাকাতদল একই এলাকার আলীম নবীর বসতঘরে ঢুকে টাকা, সোনা অলংকার ও গোয়ালঘর থেকে বড় আকারে দুটি গরুসহ দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে।

ডাকাতদল রাত তিনটার দিকে পূর্ব দোহাজারীর মায়ারম দিঘির পাড় এলাকার শাহাদাৎ হোসেনের বসতঘরে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে নগদ পাঁচ হাজার টাকা, তিনটি সোনার আংটি, একটি মোবাইল সেট, একটি গরু ও দুটি ছাগলসহ দেড় লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নেয়। এর কিছুক্ষণ পরে ডাকাতদল একই এলাকার বাবু খানপাড়ার কৃষক আশরাফ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে চারটি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর চিত্কারে স্থানীয় জনতা এগিয়ে এসে বাধা দেয়। এতে ডাকাতরা গরু ছেড়ে দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এ সময় গৃহকর্তা আশরাফ মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। ডাকাত চলে যাওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আশরাফকে উদ্ধার করে প্রথমে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পূর্ব দোহাজারীর বাবুখানপাড়ার বাসিদা মোহেছনা খাতুন জানান, ডাকাতদল মাইক্রোবাস ও পিকআপে এসেছিল। তাদের সাথে থাকা পিকআপে অন্য স্থান থেকে লুট করা গরু ছিল। কয়েকজন ডাকাত মুখোশ পরা অবস্থায় পিকআপে এবং অন্যরা মাইক্রোবাসে ছিল।

ডাকাতকবলিত গৃহকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘ডাকাতরা প্রথমে বসতঘরে ঢুকে সবাইকে গুলি করে মারার ভয় দেখিয়ে টাকা, সোনার অলংকার ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে যাওয়ার সময় গোয়ালঘরের গরু এবং ছাগলও লুট করে নিয়ে যায়। গরু-ছাগলও যে ডাকাতি করে নিয়ে যায় এটি জীবনে প্রথম দেখলাম। ’


মন্তব্য