kalerkantho


অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে

ধরাছোঁয়ার বাইরে অস্ত্রধারীরা

এস এম রানা   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ধরাছোঁয়ার বাইরে অস্ত্রধারীরা

চট্টগ্রাম নগরীতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু অস্ত্রধারীরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। উদ্ধার হচ্ছে না অবৈধ অস্ত্রও। মাঝেমধ্যে দেশে তৈরি দুয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার হলেও অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। উঠতি বয়সের কিছু তরুণের হাতে বেশির ভাগ অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলে নগর পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করেন।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নগর ভবনে দরপত্রকে কেন্দ্র করে অস্ত্রবাজির ঘটনা ঘটে।

এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, অসৎ লোকের হাতে অবৈধ অস্ত্র চলে গেছে। এর সঙ্গে কিছু বৈধ অস্ত্রও ব্যবহৃত হচ্ছে অপরাধ কর্মকাণ্ডে। কিন্তু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান এখন অনেকটা কঠিন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান কঠিন হবে কেন?-প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে ক্ষমতার ‘বিশেষ সম্পর্ক’কে ইঙ্গিত করেছেন।

নগরীতে অস্ত্রবাজির ঘটনা বাড়লেও অবৈধ অস্ত্র কেন উদ্ধার হচ্ছে না জানতে চাইলে নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে না এমন অভিযোগ সঠিক নয়। থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করছে। ’

বেশির ভাগ সময়ই দেশে তৈরি কিছু অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলা হলেও অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার কম হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন শান্ত। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। সংঘাত না থাকলে অস্ত্রের ব্যবহারও হয় না। যেহেতু, নগর পুলিশ সংঘাতমুক্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, সেহেতু প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার নেই বললেই চলে। ’ তবে তিনি মনে করেন, ‘রাতের অন্ধকারে কেউ যদি আকস্মিক অস্ত্রবাজি করে, তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। সেই ক্ষেত্রেও পুলিশ কঠোর অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করছে। ’

পাবর্ত্যাঞ্চল ও যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে নগরীতে ভারী অস্ত্র আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অস্ত্র চোরাচালানকারীরা নানাভাবে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার করার চেষ্টা করতে চাইতে পারে। কিন্তু নগর পুলিশ সতর্ক আছে এবং অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ’

অবৈধ অস্ত্রধারীরা ২০১৩ সালের ২৪ জুন ভয়াবহ অপরাধ ঘটিয়েছিল নগরীর সিআরবি এলাকায়। ওই দিন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাদের সংঘর্ষের বলি হয়েছিল শিশু আরমানসহ দুজন। সেই দিনের সেই আলোচিত অস্ত্রবাজির ঘটনার মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে ধারাবাহিকভাবে অস্ত্রবাজির ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, চট্টগ্রাম কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অস্ত্রবাজির ঘটনাও ঘটেছে।

গত বছরের ২ নভেম্বর আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনীতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সমর্থক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার হয়। ওই বছরের ১৯ অক্টোবর মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের বাসা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এর আগে ১৫ মার্চ ঘাটের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদরঘাট এলাকায় ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মো. আবু জাহিদ নামের এক ঝুট ব্যবসায়ী খুন হন। ২৯ মার্চ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে খুন হন নাছিম আহমেদ সোহেল। ওইদিনও অস্ত্র প্রদর্শন হয়। ১১ ডিসেম্বর কোতোয়ালী থানার অদূরে চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসের সামনে দুপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী ইব্রাহীম হোসেন মানিক।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাকলিয়া থানার হাজি আমিনুর রহমান রোডে কমিশনার মাহবুবুল হক বাইলেনের মুখে গুলিবিদ্ধ হন যুবলীগকর্মী তানজির। ৯ ফেব্রুয়ারি একই থানার মাস্টারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন আরেক যুবলীগকর্মী এম মাহমুদ রনি। ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকার রিকশা গ্যারেজের মালিক মিনহাজ উদ্দিন জুয়েলকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।


মন্তব্য