kalerkantho


নতুন পাঠ্যবই পেয়ে খুশি সবাই

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অবশেষে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি শিশুদের হাতে পৌঁছেছে তাদের মাতৃভাষার বই। শুধু বই নয়, নতুন বছরে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সীমিতভাবে মায়ের ভাষায় পড়ালেখাও শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের নানা অজুহাত আর অর্থ সংকট পেছনে ফেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এসব বই ছেপেছে। নতুন বর্ণমালায় নতুন বই পেয়ে খুশি পাহাড়ি শিশু শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, প্রথম দফায় পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা এবং সমতলের সাদ্রি ও গারো আদিবাসীদের ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তক এবং বর্ণমালা সম্বলিত অনুশীলন খাতা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ম্রো, মণিপুরী (বিঞ্চুপ্রিয়া ও মৈতৈ), তঞ্চঙ্গ্যা, খাসি ও বমসহ ছয় ভাষায় এবং তৃতীয়বারে কোচ, কুড়ুক (ওরাও), হাজং, রাখাইন, খুমি ও খ্যাং ভাষার পর একে একে দেশের সব ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর কথা রয়েছে।

জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও মাতৃভাষা গবেষক মথুরা ত্রিপুরা বলেন, ‘অপরিচিত বর্ণমালার সাথে মানিয়ে নিতে আগামীতে ভাষাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। ’

তিনি প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) মাতৃভাষার পাঠ্যপুস্তক পড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্তি এবং আগামী বছর থেকে প্রথম শ্রেণিতে মাতৃভাষার বই ছাপানোর অনুরোধ জানান।

এদিকে বর্তমান সরকারের আমলেই মাতৃভাষার পাঠ্যপুস্তক চালু করতে পারায় সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সরকারি হস্তান্তরিত বিভাগসমূহের প্রধান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো কিছু সমস্যা থাকলেও আগামী বছর থেকে তা থাকবে না। ’

প্রায় হারিয়ে যাওয়া ভাষা ও বর্ণমালার বিলুপ্তি ঠেকাতে মাতৃভাষার পাঠ্যপুস্তক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সচেতন পাহাড়িরা।

অবশ্য তাঁরা অন্যান্য ভাষায়ও পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তনের আহ্বান জানান।


মন্তব্য