kalerkantho


বাণিজ্যমেলা এবার দেরিতে শুরু হবে

আসিফ সিদ্দিকী   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা প্রতিবছর মার্চ মাসের প্রথমে শুরু হলেও এবার একটু দেরিতে শুরু হচ্ছে। আগামী ১৫ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে মেলা উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ মাথায় রেখে চলছে জোর প্রস্তুতি।

এটি বেসরকারি উদ্যোগে দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যমেলা বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

নগরীর পলোগ্রাউন্ডে চার লাখ বর্গফুটের বিশাল পরিসরে মেলার স্টল, প্যাভিলিয়ন সব বরাদ্দ হয়ে গেলেও এখনো মাঠ বুঝে পায়নি মেলার আয়োজক চট্টগ্রাম চেম্বার কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার অংশগ্রহণ শেষে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত চট্টগ্রাম বাণিজ্যমেলায় অংশ নেয়। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এবার দেরি হয়ে গেছে। গতবছরও একই অবস্থা হয়েছিল। ’

তিনি জানান, মেলা নির্দিষ্ট সময়ে শুরু না হলে অংশগ্রহণকারীরা সমস্যায় পড়েন। আর বেশি দেরি হলেও শীত পার হয়ে বৃষ্টির ঝুঁকি থেকে যায়। সেজন্য চট্টগ্রামে বাণিজ্যমেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান থাকলে বছরজুড়েই যেকোনো বাণিজ্য সংগঠন মেলার আয়োজন করতে পারে।

আয়োজকরা জানান, সরকারি উদ্যোগে দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যমেলা হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। প্রতিবছর সেই মেলা শেষ হওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম বাণিজ্যমেলা শুরু হয়। এবার ঢাকা বাণিজ্যমেলা শেষ হয়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি। এর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চট্টগ্রামে শুরু হওয়ার কথা বাণিজ্যমেলা। কারণ ঢাকায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সেখান থেকেই স্টল ও প্যাভিলিয়ন সরঞ্জাম নিয়ে সরাসরি চট্টগ্রামে রওনা দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামে মেলার জন্য সবচেয়ে বড় মাঠ হলো রেলওয়ের পলোগ্রাউন্ড। সেই মাঠে গত জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের আন্তর্জাতিক এসএমই ফেয়ার। এরপর শুরু হয়েছে বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান। সেই ক্রীড়ানুষ্ঠান শেষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠটি মেলা আয়োজনের জন্য চট্টগ্রাম চেম্বারকে বুঝিয়ে দেবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার মেলা আয়োজন দেরি হওয়ার আরেকটি কারণও ছিল। আগামী ১২ মার্চ ওই পলোগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের দলীয় জনসভার দিন ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই জনসভায় উপস্থিত থাকার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন নিশ্চিত না হওয়ায় জনসভা আপাতত স্থগিত রয়েছে। এদিকে, আগামী বৃহস্পতিবার মেলা উদ্বোধনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করবে চেম্বার। একইসাথে মেলা আয়োজক কমিটি গঠন ও আয়োজনের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম চেম্বার ১৯৯২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আয়োজন করে আসছে। ৪৭টি স্টল দিয়ে শুরু প্রথমবারের এই বাণিজ্যমেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার। মেলার ব্যাপ্তি এবং পরিধি বেড়ে ২০১৩ সালে রেকর্ড ছুঁয়ে ৩০ লাখ দর্শকের সমাগম হয়। আর ২০১৫ সালে মাসব্যাপী মেলায় ২০ লাখ ৯০ হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করেন। গতবার ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ৩০০ স্টল-প্যাভিলিয়নে মেলায় অংশ নিয়েছিল।


মন্তব্য