kalerkantho


অমর একুশে

শহীদ মিনার নেই মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

সাতকানিয়া

জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শহীদ মিনার নেই মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

উপজেলার সব কটি মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। ফলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মহান একুশে ফেব্রুয়ারিসহ বিশেষ দিবসগুলোতে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। তবে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। আবার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসব দিবসে বন্ধ থাকে।

সাতকানিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিম শরীফ জানান, উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৫ কিন্ডারগার্টেন, ৪২ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩২ মাদ্রাসা ও ছয়টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ ছাড়া অন্য পাঁচ কলেজে শহীদ মিনার আছে। ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কয়েকটি ছাড়া সবকটিতে শহীদ মিনার আছে। তবে মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনগুলোতে শহীদ মিনার নেই বললেই চলে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, ‘এখনো উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। শিক্ষার্থীদের মাঝে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিতে আমরা পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে কিছু স্কুলে কমিটির লোকজন নিজস্ব অর্থায়নেও শহীদ মিনার তৈরি করেছেন।

সাতকানিয়া আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তফাজ্জল হোসাইন বলেন, ‘আমার কলেজে শহীদ মিনার নেই। তবে যত দ্রুত সম্ভব শহীদ মিনার তৈরি করব। ’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ চিরান বলেন, ‘উপজেলায় ১৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪৫টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এর মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে কিনা এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। ’

সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নেই। ভাষা শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ শহীদ মিনার না থাকায় এতে শিক্ষার্থীদেরকে মহান একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস ও তাত্পর্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আমরা চিত্রাংকনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ’

প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছর পর কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার প্রথমবারের মতো এবার স্কুলের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতোদিন ধরে তাদের কেউ কেউ শহীদ দিবসসহ বিশেষ দিবসে উপজেলা সদরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে শ্রদ্ধা জানাত।

সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত হয়েছে শহীদ মিনার। কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদ ও কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় যৌথভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী। প্রতিষ্ঠার প্রায় ৩৫ বছর পর কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার নির্মিত হলো।

শহীদ মিনার পেয়ে বেশ উত্ফুল্ল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান রাফীর ভাষায়, ‘আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শহীদ মিনার নেই। আবার উচ্চ বিদ্যালয়েও শহীদ মিনার ছিল না। এ কারণে আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাইনি। অবশেষে শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সুযোগ পাবো, এতেই আমরা খুশি। ’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার বলেন, ‘এটি পুরো কেঁওচিয়া ইউনিয়নের প্রথম শহীদ মিনার। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসায় প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই। ’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ব্যাংকার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারবে। ’


মন্তব্য