kalerkantho


নগরীতে ১১ দিনের বইমেলা শুরু

দ্বিতীয় রাজধানী ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নগরীতে ১১ দিনের বইমেলা শুরু

উদ্বোধনের পর মেলা ঘুরে দেখেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

নগরীর শহীদ মিনার ও মুসলিম ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ১১ দিনব্যাপী বইমেলা শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই মেলা উদ্বোধন করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। মেলায় বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি এবং চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রায় ৫৪টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিচ্ছে। মেলার কর্মসূচিতে রয়েছে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার প্রদান, চিত্রাংকন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু-কিশোরদের নৃত্যানুষ্ঠান, লোকসঙ্গীত, নাটক, কবিগান, কবিতা, ছড়াপাঠ ও আবৃত্তি।

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক নাজমুল হক ডিউকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী ও জোবাইরা নার্গিস খান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন। আরো বক্তব্য দেন সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদের সভাপতি মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু। উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন, হাসান মুরাদ বিপ্লব, এস এম এরশাদ উল্লাহ, শৈবাল দাশ সুমন, মো. সলিমউল্লাহ বাচ্চু, আঞ্জুমান আরা বেগম, মনোয়ারা বেগম মনি এবং মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, ‘আগামী বছর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খ্যাতিমান প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের মিলনমেলায় পরিণত করা হবে চট্টগ্রামের এই বইমেলা। বাংলা একাডেমির সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ঢাকার মতো ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী আন্তর্জাতিকমানের বইমেলার আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রকাশক, লেখক ও বিশিষ্টজনদের সাথে পরামর্শ করা হবে।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘প্রকাশক, লেখক, কবি সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে সৃজনশীল আয়োজনে বইমেলাকে পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করে বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে। চট্টগ্রামের বইমেলার এই আবেদন দেশের জেলা উপজেলার গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দেওয়া হবে। ’

তিনি বলেন, ‘বই মনের দরজা খুলে দেয়, কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে, জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে। ’ তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবাইকে বই পড়তে ও কিনতে আগ্রহ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। বইয়ের মাধ্যমে অজানাকে জানা যায়, চিন্তার দরজা খুলে যায়, দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বই পড়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হওয়া সম্ভব। ’

চট্টগ্রাম ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘১৯৫২ সালে চট্টগ্রামে মহান একুশের প্রথম কবিতা রচনা করেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী। ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম থেকে বাঙালির বাঁচার দাবি ছয় দফা বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন। ’

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘১৯৭১ সালে জাতির পিতার পক্ষে বাংলার স্বাধীনতার ঘোষণা কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ মার্চ দ্বিপ্রহরে ঘোষণা করেন জননেতা এম এ হান্নান। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের সন্তান সূর্য সেন ও প্রীতিলতার আত্মদানও ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে। ’

মেয়র বলেন, ‘বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, প্রমথ চৌধুরীর হাত ধরে বাংলা ভাষার সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে ওঠেছে। আকাশ সংস্কৃতির দাপটে বাংলা ভাষা চর্চা অনেকাংশে স্থবির হতে চলেছে। ’ বিকৃতি রোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে হবে এবং প্রমিত বাংলা ভাষার চর্চা করতে হবে। ’


মন্তব্য