kalerkantho

‘পানির দরে’ পেঁয়াজ

আসিফ সিদ্দিকী   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘পানির দরে’ পেঁয়াজ

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ‘পানির দরে’ বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় এবং দেশি পেঁয়াজের সরবরাহও বেড়ে যাওয়ায় দাম কমার ‘প্রতিযোগিতা’ চলছে। অবস্থা এমন হয়েছে ভোমরা স্থলবন্দরে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, খাতুনগঞ্জে এর চেয়ে কম দামে মিলছে পেঁয়াজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে ভোমরা ও হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় নাসিক জাতের ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৪ টাকায়। একই পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে গতকাল

শনিবার বিক্রি হয় কেজি ১৪ থেকে ১৫ টাকায়।

এর কারণ জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্লাহ মার্কেট আড়তদার সমিতির সধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে এসেছে। পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য, যে পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে সেরকম চাহিদা তো নেই। তাই বেশি আর্থিক ক্ষতি এড়াতে প্রতিযোগিতা দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ’

লোকসান দিয়ে ‘পানির দরে’ কেন পেঁয়াজ বিক্রি করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো উপায় নেই। আমরা তো আর এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে পারব না। ’

তাঁর মতে, সীমান্তে স্থলবন্দরগুলোতে পেঁয়াজ ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একইদামে খাতুনগঞ্জেও বিক্রি হচ্ছে। তাহলে প্রতি ট্রাকে ৩০ হাজার টাকা গাড়িভাড়া কই? মূলত লগ্নিকৃত অর্থ হাত ঘোরানো হচ্ছে। বেশ কয়েক মাস ধরেই এই অবস্থা চলছে।

গতকাল শনিবার দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকান পেঁয়াজে ভরপুর। ভারতের নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৪ থেকে ১৫ টাকায়। বাজারে এই জাতের পেঁয়াজের চাহিদাই সর্বোচ্চ। এছাড়া বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বেশ বেড়েছে। মুড়ি কাটা পেঁয়াজ ছাড়াও এই সপ্তাহে বাজারে এসেছে মেহেরপুর থেকে উন্নতমানের পেঁয়াজ। যদিও চট্টগ্রামে এই জাতের পেঁয়াজের চাহিদা খুব বেশি নয়। পেঁয়াজ ছাড়াও রসুন ও আদা বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

পেঁয়াজের আড়তদার আবসার উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন শুধু পেঁয়াজ বিক্রির নামে বিনিয়োগকৃত টাকাগুলো হাতবদল করছি। এখানে লাভ নেই, লোকসানের পরিমাণই বেশি। ’ তিনি জানান, গত কয়েকমাস ধরেই পেঁয়াজ, রসুন ও আদাতে একই দশা চলছে। প্রতিদিনই দাম কমছে এই পণ্যের।

পাইকারি বাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কাছাকাছি দামে। জানতে চাইলে কাজির দেউড়ি আল মদিনা স্টোরের কর্ণধার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৫ টাকা দরে কিনে দোকানে আনতে ধোলাই, পরিবহন ও পচা পেঁয়াজ বাছাই করার পর আমরা প্রতিকেজি বিক্রি করি ১৮ থেকে ২০ টাকায়। ’ তিনিও স্বীকার করেন পেঁয়াজের বাজার বিগত অনেকমাস ধরেই স্থিতিশীল।

উল্লেখ্য, দেশের চাহিদার বড় অংশ দেশিয় পেঁয়াজ দিয়ে মিটলেও প্রতিবারই বাজারে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ভারতীয় পেঁয়াজ। ভারতের কৃষক ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য (এমইপি) একেবারে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এরপর থেকে দেশে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হতে শুরু করে। প্রতিবছর রমজানে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হলেও ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য না থাকায় গত বছর রমজান ও কোরবানি ঈদে দাম একেবারে বাড়েনি।


মন্তব্য