kalerkantho

দিন ফিরল সবজিচাষে

জাহেদুল আলম, রাউজান   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দিন ফিরল সবজিচাষে

রাউজানের খাসখালী খালের পাড়ে সবজিচাষ করেছেন দুই শতাধিক চাষি। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাঝখানে খাল। দুই পাশজুড়ে সবুজের সমারোহ।

বিস্তীর্ণ মাঠে সবজিক্ষেত। নানাজাতের শীতকালীন সবজিতে জুড়িয়ে যায় চোখ। কাকডাকা ভোর থেকে ব্যস্ততা শুরু কৃষকের।

রাউজানের খাসখালী খালের দুই পাড়ের দৃশ্য এটি। উপজেলার সবজিভাণ্ডার হিসেবে এটি পরিচিত। এখানকার সবজিগুলো ‘বিষমুক্ত’ বলে স্থানীয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি।

জানা গেছে, প্রতিবছর রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর, শরীফপাড়া, ঢেউয়াপাড়া, ছিটিয়াপাড়া ও হাজীপাড়ার দুই শতাধিক কৃষক খাসখালী খালের দুপাশে নিজের জমি কিংবা বর্গা নিয়ে শীতকালীন সবজিচাষ করেন। বিশেষ করে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শিম, নানারকম শাক, আলু, মরিচ, মুলা, কইডা, টমেটো, কদু, ধনেপাতা, সরিষাসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজিচাষ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খাসখালীকূলের ৩৫ হেক্টর জমিতে নানারকম শীতকালীন শাক-সবজিচাষ হয়।

বিশেষ করে, নভেম্বর মাস থেকে চাষাবাদ শুরু হয়। চলে মার্চ পর্যন্ত। এখানকার সবজি রাউজানের সব বাজার ছাড়াও হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ায় বিক্রি হয়। ’

তিনি জানান, এখানকার সবজি ‘বিষমুক্ত’। এ কারণে এসব সবজির  যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে সবখানে। খাসখালীকূলের সবজিচাষ করেন দুই শতাধিক কৃষক।

খাসখালী খালকূলে সবজিক্ষেত করে সংসার চালান যুবক জাহাঙ্গীর ছাত্তার টিংকু। তিনি বলেন, ‘সাতকানি জমিতে এবার সবজিচাষ করেছি। তবে কোনোটিই আমার নিজের নয়। জমি বর্গা নিয়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, টমেটো, কদু, মরিচ, কইডা, বেগুন ও ধনেপাতা চাষ করেছি। সবজি বেচে তিন ভাই, মা, বাবা ও স্ত্রী নিয়ে সংসার চলছে ভালোই। ’

ক্ষেতের সবজি বিক্রির টাকায় মাত্র চার মাস আগে বিয়ে করেছেন জানিয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ক্ষেতের পরিচর্যায় সারাবছর ১০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে তিনজন শ্রমিক রেখেছি। ’

১৪-১৫ বছর ধরে সেখানে সবজিচাষ করছেন স্থানীয় পালপাড়ার বৃদ্ধ কৃষক দেবেন্দ্র দাশ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আট বছর ধরে সবজিচাষ করছি। এবার আধাকানি জমিতে ফুলকপি, আলু ও মরিচের চাষ করেছি। গতবছর লোকসান হলেও এবার ভালো লাভ হবে আশা করছি। ’

শরীফপাড়া এলাকার বৃদ্ধ আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার বাবাও খাসখালী খালের কূলে সবজিচাষ করেছেন। আমরাও করছি। নিজের আট কানি জমিতে সবজি উত্পাদন করে নিজেই বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করি। ’

আবু তাহের নামের আরেক বৃদ্ধ বলেন, ‘দুই কানি জমিতে সবজিচাষ করি। প্রতিবছরই আশানুরূপ লাভ হয়। ’

তবে কৃষকের অভিযোগ, সার, কীটনাশকসহ নানা উপকরণের দাম বৃদ্ধি না হলে খাসখালী খালের কূলের সবজিচাষে আরো লাভবান হতেন তাঁরা।


মন্তব্য