kalerkantho


পর্যটন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার

‘পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে বদলে দেবে কক্সবাজার’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বে সৌন্দর্যের মুকুট ধারণ করে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ইন্দিরা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস পি বানসাল। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখলেই বোঝা যায়, প্রকৃতি তার উদার হস্তে ঢেলে সাজিয়েছে এই অঞ্চল। পর্যটনের অপার সম্ভাবনা নিয়ে কক্সবাজার অপেক্ষা করছে। কক্সবাজার আগামী পাঁচ বছর পর অনেকটা বদলে দিতে পারে বাংলাদেশকেও। ’

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কক্সবাজারের পর্যটনে আর্থসামাজিক প্রভাব’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে ভারতীয় এই শিক্ষাবিদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন। গতকাল বুধবার সেমিনারটির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই সেমিনারে ভারত, আমেরিকা, ইন্দোনোশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন অতিথি অংশ নেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষকেরাও অতিথি ছিলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবুল কাশেম।

অধ্যাপক এস পি বানসাল বলেন, ‘কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে এতদঞ্চলের পর্যটন বিস্তার সম্ভব। কক্সবাজারের মতো এতো দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত বিশ্বের আর কোথাও নেই।

পাহাড় পর্বতগুলো দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। পরিকল্পনা তৈরি করে প্রকৃতি প্রদত্ত এসব সম্পদ কাজে লাগিয়ে ঢেলে সাজাতে পারলে কক্সবাজারের পর্যটনের প্রতি সারাবিশ্বের মানুষের আলাদা নজর থাকবে’।

এখানকার পর্যটন এলাকা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ উল্লেখ করে ভারতীয় এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘এ খাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার উদ্যোগ নিলে অন্যতম আয়ের উৎস হবে। তবে এক্ষেত্রে ব্যক্তি উদ্যোগকেও স্বাগত জানাতে হবে’।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পর্যটনকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে হলে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নকে প্রধান টার্গেট হিসেবে নিতে হবে। এ জন্য পর্যটন খাতের উন্নয়নে স্থানীয়দের সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ রাশেদুল হাসান, অধ্যাপক আফজাল হোসেন, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সাকির আহমেদ ও সহকারী অধ্যাপক ড. মো.বদরুজ্জামান ভূঁইয়া।

অধ্যাপক সাকির আহমদ বলেন, ‘মহেশখালী দ্বীপ ঘিরে সরকার অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ওই দ্বীপে সবচেয়ে বড় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। এলএনজি টার্মিনালসহ আরো অনেক কিছু হবে। টেকনাফের সাবরাংয়ে অর্থনৈতিক জোনের কাজ চলছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক পর্যটননগরী হিসেবে প্রস্তুত হচ্ছে কক্সবাজার। অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলমান থাকলেও এই মুহূর্তে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এখানকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন। ’


মন্তব্য