kalerkantho


বেড়িবাঁধের সংস্কারকাজ

ঠিকাদারের গাফিলতি লবণচাষির সর্বনাশ

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঠিকাদারের গাফিলতি লবণচাষির সর্বনাশ

চকরিয়ার পশ্চিম বড়ভেওলায় জোয়ারের পানিতে লণ্ডভণ্ড লবণমাঠ। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্লুইস গেট ভেঙে সমুদ্রের জোয়ারে তলিয়ে গেছে চকরিয়ার বিস্তীর্ণ লবণমাঠ। শতাধিক চাষির উত্পাদিত লবণ ভেসে গেছে পানিতে। ক্ষতিগ্রস্তরা এ ব্যাপারে বেড়িবাঁধ নির্মাণে নিয়োজিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটতে গিয়ে ভেঙে যায় স্লুইস গেট। চাষিরা বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। লবণচাষি ও উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা জানান, চিংড়িচাষি ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চিংড়িজোনের ক্ষতবিক্ষত বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করে সম্প্রতি। এ কাজে পাউবো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে নিয়োজিত করে। কিন্তু পাউবো কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগে যেনতেনভাবে সংস্কারকাজ চালাচ্ছে ঠিকাদার। মাটি কাটতে গিয়ে ভেঙে যায় পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের লম্বাখালী ঘোনার স্লুইস গেট। এতে জোয়ারে তলিয়ে যায় লবণমাঠ। পানিতে ভেসে যায় প্রায় ২০ লাখ টাকার উত্পাদিত লবণ।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, ‘চকরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়িজোন ও লবণচাষ নিশ্চিত করতে তিনটি প্যাকেজের আওতায় লম্বাখালী এলাকায় প্রায় ১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজ শুরু চলছে। এই কাজ শেষ হলে সুফল মিলবে। ’

তিনি জানান, বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে গিয়ে হয়তো ভুলের কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্লুইস গেট ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটিও দুর্ঘটনা। এটি দ্রুত সচল করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত লবণচাষি মোহাম্মদ এখলাছ, কায়কোবাদ, মনছুর আলম, নাজেম উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, আবদুল করিম, জকরিয়া, মোহাম্মদ ছাদেক, বাদশা মিয়া, নাজু মাঝি, আবদুর রহমান, ছলিম উদ্দিন, নুরুল আমিন, ছলিম বাদশা, আবছার মিস্ত্রী, গিয়াস উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, কবির আহমদ, মনির উল্লাহ, মোক্তার আহমদসহ অনেকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজ করার সময় শ্রমিকের পরিবর্তে এক্সাভেটর দিয়ে মাটি কাটতে গিয়ে চাষিদের সর্বনাশ করেছে।

তাঁরা চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং ভেঙে যাওয়া স্লুইস গেট দ্রুত সচল করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

লবণমাঠ লম্বাখালী ঘোনার পরিচালক ও ফোয়াব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটার কাছে লম্বাখালী ঘোনার ৩৫৩ একর জমিতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩৬০ জন চাষি লবণচাষ করেন। এছাড়া আশপাশের বিপুল পরিমাণ জমিতেও লবণচাষ হয় ভেঙে যাওয়া ওই স্লুইস গেটের সুবিধা নিয়ে। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সামুদ্রিক জোয়ারে ভেসে গেছে উত্পাদিত ২০ লক্ষাধিক টাকার লবণ। ’


মন্তব্য