kalerkantho


স্কুলের খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণ

জাহাঙ্গীর আলম, চন্দনাইশ থেকে   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে চন্দনাইশ বরকল এস জেড উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণকাজ চলছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

জানা গেছে, মার্কেট নির্মাণের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আবুল কালাম চৌধুরী উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের বেঞ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা দেন। এছাড়া ওই মার্কেট নির্মাণ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব, শিক্ষা সচিব, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, উপ-পরিচালক শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম এবং বরকল স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ বিবাদীদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, ‘মার্কেট নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের মাঠের পূর্ব-পশ্চিম পাশের প্রায় ২৫০ ফুট পুরনো সীমানা প্রাচীর ও বিদ্যালয়ের পাকা তোরণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাতদিন সমানে মার্কেট নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। ’

তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে দাবি করে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী জসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি সত্য নয়। স্কুলের খালি জমিতে নতুন একাডেমিক ভবন হচ্ছে। ওই ভবনে স্কুলের আয় বাড়াতে কয়েকটি দোকান থাকবে। ’

ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক অভীক ওসমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালতের রায় হুবহু পালন করতে হবে। যদি স্কুলের জন্য আয়বর্ধক প্রকল্প করতে হয় তাহলে বিত্তবান সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে সংলাপ, সমাবেশ করা যেতে পারে।

বরকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলের খেলার মাঠে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ কোনো অবস্থায় সমর্থনযোগ্য নয়। ’

আরেক সাবেক শিক্ষার্থী আবুল কাশেম ভাসানী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এভাবে বাণিজ্যিকীকরণ উচিত নয়। ’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য রিজুয়ানুল হক চৌধুরী মিঠু জানান, তাঁর সময়কালে ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতার দরুণ সরকারের কাছে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের আবেদন করা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে নতুন ভবন নির্মাণে ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খেলার মাঠে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা যাবে না বলে সরকারের নির্দেশনা আছে বলে জানায়। পরবর্তীতে দাতাসদস্য মরহুম ফরিদুল আলম চৌধুরী নতুন ভবনের জন্য মূল ভবনের পিছনে তিন গণ্ডা জমি দান করেন।

তাঁর প্রশ্ন, যেখানে খেলার মাঠ সংকোচন করে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করার সরকারি বিধিনিষেধ আছে, সেখানে কীভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মার্কেট নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়?


মন্তব্য