kalerkantho


রোহিঙ্গারা এবার বসতি গেড়েছে সৈকতে

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গারা এবার বসতি গেড়েছে সৈকতে

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে রোহিঙ্গাদের বসতি। ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারি পাহাড় এবং বনজঙ্গলের পর এবার অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা সমুদ্রসৈকত দখলে নেমেছে। সেখানে বসতি গড়ে তুলছে এরা।

এলাকার ‘রোহিঙ্গা ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচিতরা সৈকত দখলের কৌশল হিসেবে এদের ঘর বানাতে সহায়তা করছে।

তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সৈকত দখল করে কোনো বসতি করতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে যারা সৈকত দখল করেছে তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। ’

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘জোয়ারের পানি ধরা থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত সৈকতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা বসতি স্থাপন করা যাবে না। কিছু ব্যক্তি তাদের নিজস্ব জমি দাবি করে বসতি তৈরি করছে, অনেকে ঘেরা দিচ্ছে। জমি তাদের হলেও তা দখল করা যাবে না। নদী সিকস্তি আইনে তা মুক্ত রাখতে হবে। সম্প্রতি সৈকতে যে বসতি গড়ে ওঠছে তা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে উচ্ছেদ করা হবে। ’

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ উর রহমান মাসুদ বলেন, ‘এভাবে অবাধে রোহিঙ্গাদের বসতি গড়ে ওঠলে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শ্রীহীন হয়ে পড়বে।

তাই নতুন বসতি দ্রুত উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। তা নাহলে সৈকত রোহিঙ্গামুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে। ’

গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংস ঘটনার জের ধরে হাজার হাজার রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে। এদের অনেকে বনভূমি দখল করে পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। বনজ সম্পদ ধ্বংস করে শত শত একর জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এরা বসতি গড়ে তুলে। এবার এরা নতুন করে সমুদ্রসৈকতে বসিত স্থাপনের দিকে ঝুঁকেছে।

কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে দেখা যায়, পুরনো কিছু বসতির আড়ালে নতুন বসতি তৈরি হচ্ছে। সদ্য নির্মিত এসব ঘর সাগরের জোয়ারের পানির কাছাকাছি চলে গেছে।

ঘর নির্মাণে নিয়োজিত রোহিঙ্গা শ্রমিক মোহাম্মদ জসিম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পাহাড় থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই তাদের বিকল্প হিসেবে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে সৈকতে। ’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকায় ‘রোহিঙ্গা ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় নুরুল ইসলাম, নুরুল আলম, রেজাউল করিম ও আবদুস শুক্কুরসহ কয়েকজন সৈকতে ঘর তুলতে সহায়তা করছেন। গুরামিয়া নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, প্রভাবশালীরা কৌশলে জায়গা দখল করার জন্য রোহিঙ্গাদের ঘর বানিয়ে দিচ্ছে। সাগরপাড়ের রেজুখাল সংলগ্ন সমুদ্রসৈকতের ঝাউবনে শত শত পুরনো ঘরের আড়ালে নতুন ঘর তৈরি হচ্ছে। এদের পঞ্চাশ শতাংশ মানুষ রোহিঙ্গা। পুরনো রোহিঙ্গারা নতুন রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আগে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা অর্থের বিনিময়ে সৈকতে ঘর করতে নতুনদের আশ্রয় দিচ্ছে। টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রোহিঙ্গা বসতি নির্মাণে সহযোগিতা দিচ্ছে। উখিয়ার মনখালী, চেপটখালী, ছোয়ানখালীসহ সমুদ্রসৈকতে গড়ে ওঠেছে রোহিঙ্গা বস্তি। মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশেও বাস করছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। কক্সবাজার পৌর শহরের নাজিরারটেক, সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া সংলগ্ন সৈকতে নতুন করে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে।


মন্তব্য