kalerkantho


গাড়ি চালকের খোঁজ মেলেনি ৯ দিনেও

জাকির হোসেন, দীঘিনালা   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গাড়ি চালকের খোঁজ মেলেনি ৯ দিনেও

ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলীর খোঁজ মেলেনি নয় দিনেও। তবে গত বৃহস্পতিবার অচেনা ফোন নম্বর থেকে সন্ত্রাসীরা মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নে তাঁর বাড়ি। এর আগেও একই ইউনিয়নের ভাড়ায়চালিত তিন মোটরসাইকেলচালক হত্যার শিকার হন। তাঁদের মধ্যে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুজনকে হত্যা করা হয়। পুলিশ অপরজনের লাশ উদ্ধার করে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থেকে।

এ প্রসঙ্গে দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজ মোহাম্মদ আলীর ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তাঁর খোঁজে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ’ তিনি জানান, যাত্রীবহনে চালকদের কিছু নিয়ম মেনে আরো সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর গত বৃহস্পতিবার একটি অচেনা ফোন নম্বর থেকে ফোন করে স্বামীর মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা করা হয়।

বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। ’

দীঘিনালার কবাখালী এলাকার মিলনপুর শিবিরের বাসিন্দা ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলী (৪০)। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরেননি। সেদিন রাত থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তাঁর স্বজনরা জানান, তাঁরা জানতে পেরেছেন ওই দিন মোহাম্মদ আলী বাড়ি থেকে বের হয়ে বাস টার্মিনালে গিয়ে একযাত্রী নিয়ে সাজেকের দিকে গিয়েছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৬ মে রাতে জবাই করে হত্যা করা হয় ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক শাহ আলমকে। তিনি চট্টগ্রামের

রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটার রাজা মিয়ার ছেলে। দীঘিনালার কবাখালীর হাচিনসনপুর গ্রামে থেকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন তিনি। যাত্রী সেজে দুই যুবক তাঁকে দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের ভৈরফা এলাকায় নিয়ে গিয়ে জবাই করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় আটক মিরন মিয়া ও নুরনবী পুলিশকে জানিয়েছিল, তাঁরা মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহ আলমকে হত্যা করে।

২০১৩ সালের ২১ জুন রাতে দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের ছয়মাইল নামক এলাকায় ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক চানমিয়াকে জবাই করে হত্যার পর মোটরসাইকেল নিয়ে যায় খুনিরা। চান মিয়া কবাখালীর আশরাফ আলীর ছেলে। তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পরে সাতক্ষীরা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এছাড়া, ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বিকেলে যাত্রী নিয়ে বাঘাইছড়ি গিয়ে আর ফিরেননি ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালক আব্দুস সাত্তার। পরদিন সকালে বাঘাইছড়ির রূপকারী ইউনিয়নের পশ্চিম বক্তপাড়া থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সাত্তারও কবাখালীর মুসলিমপাড়া গ্রামের ইদ্রিছ আলির ছেলে।

কবাখালীর মিলনপুর শিবিরের বাসিন্দা মুরগি ব্যবসায়ী আজাহার রাঙামাটির সাজেকে মুরগি সরবরাহ করেন। আজাহার জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সাজেক থেকে ফিরছিলেন তিনি। সন্ধ্যার আগে বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের গঙ্গারামের একটু সামনে উজো বাজারে মোহাম্মদ আলীর মোটরসাইকেল চলন্ত অবস্থায় দেখেন তিনি। তখন মোহাম্মদ আলীকে এক যাত্রী নিয়ে সাজেকের পথে যেতে দেখেন তিনি।


মন্তব্য