kalerkantho

নাচে-গানে বসন্তবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নাচে-গানে বসন্তবরণ

নগরীর ডিসি হিলে বসন্ত উৎসবে শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা। ছবি : রবি শংকর

ঋতুরাজ বসন্ত বরণ করে নিতে নগরীর ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ার এবং শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ সেজেছিল বর্ণিল সাজে। ছিল জমকালো নানা আয়োজন।

গতকাল সোমবার দিনব্যাপী এসব অনুষ্ঠানে দুপুরের পর থেকে নামে সব বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুর ঢল। নেচে-গেয়ে বসন্তকে বরণ করে নেন সবাই।

সোমবার সকাল থেকেই নগরীতে বাসন্তী রঙের শাড়ি পরা নারীর চলনবলন বলে দেয়, ‘বসন্ত এসে গেছে’। শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে লোকশিল্পী আবদুর রহিম যখন ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে...’ গানটি গাওয়া শুরু করেন, তখন মঞ্চের সামনে সমবেত দর্শক-শ্রোতাদের সে কী উচ্ছ্বাস! হলুদ শাড়ি পরে বাসন্তী সাজে সাজে নারী। বেশির ভাগ পুরুষের গায়ে হলুদ পাঞ্জাবি। কারো গায়ে পলাশ রঙের পাঞ্জাবিও। কোনো নারীর মাথায় লাল রঙের ফুল, কারো মাথায় হলুদ। শিশুরাও হলুদ রঙের পোশাকে শামিল হয় বসন্তবরণে।

উৎসবে আসা বিভিন্ন বয়সীদের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ছিল বেশি।

কেউ গলায় ঢোল ঝুলিয়ে আর কেউ বা হাতে মুখে রঙ মেখে আনন্দে মেতে ওঠেন। সবার মুখে বসন্তের জয়গান।

প্রমার বসন্ত উৎসব : শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল সোমবার আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী বসন্ত উৎসব। এই আয়োজনে সহযোগিতা করে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

বেহালাশিল্পীদের সংগঠন ভায়োলিনিস্ট, চট্টগ্রামের বেহালা বাদনের মধ্য দিয়ে সকাল নয়টায় শুরু হয় বসন্ত উৎসব। এর পর আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বসন্তের আবাহন করেন রাশেদ হাসান। উৎসব উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন।

আয়োজক সংগঠন প্রমার সভাপতি রাশেদ হাসান বলেন, ‘নানামুখী আগ্রাসনের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় আমরা বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছি। আমরা চাই চট্টগ্রামের পাড়া-মহল্লায় বিলুপ্তপ্রায় বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি আবার জাগিয়ে তুলতে। অন্ধকারের অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা সংস্কৃতির মাধ্যমে লড়াই করতে চাই। ’

শিল্পকলায় বসন্ত উৎসবে যোগ দেওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী শ্রেয়সী রায় বলেন, ‘ফাগুন মানে আগুন। ঝরা পাতা। নতুন করে বেঁচে ওঠার তাগিদ। ফাগুন মানে একুশ। রক্ত ঝরার দিন। ফাগুন মানে রঙিন আলোয় আলোকিত হওয়ার দিন। ফাগুন মানে ফুল, পাখি আর গান। ’

বোধনের বসন্ত আয়োজন : বোধন আবৃত্তি পরিষদ প্রতিবছরের মতো এবারও নগরীর ডিসি হিলে বসন্ত উৎসব করে। ‘নিবিড় অন্তরতর বসন্ত এল প্রাণে’ শিরোনামে এই বসন্ত উৎসব ভাগ করা হয় দুই পর্বে। প্রথম পর্বে ছিল আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, পিঠাপুলি প্রদর্শন, ঢোল বাদন ও যন্ত্রসঙ্গীত। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় বিকেল তিনটায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে।

সংগঠনটির সভাপতি রণজিৎ রক্ষিত বলেন, ‘আবহমানকাল থেকে বাঙালি সংস্কৃতিতে বসন্তের সপ্রাণ উপস্থিতি যেমন রয়েছে, তেমনি আমাদের কবি-সাহিত্যিকদের রচনায়ও বিশেষ স্থান পেয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। আমাদের তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে বাঙালি সংস্কৃতির বীজবপন করতেই এ উৎসব। কারণ বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম, যা এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। ’


মন্তব্য