kalerkantho

কুম্ভমেলায় জনস্রোত

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কুম্ভমেলায় জনস্রোত

বাঁশখালীতে আট দিনের কুম্ভমেলা শেষ হচ্ছে আজ। চণ্ডীপূজায় সাধু-সন্ন্যাসীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাঁশখালীতে আট দিনের আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা শেষ হচ্ছে আজ রবিবার। সকাল থেকে দীক্ষানুষ্ঠান ও বিকেল চারটায় ঋষি-তপস্বী, সাধু-সন্ন্যাসী, বৈষ্ণব ও ভক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে মেলা শেষ হবে।

এবার মেলায় ২০ লাখের বেশি তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়েছে বলে কুম্ভমেলা কমিটি জানিয়েছে। এদিকে মেলা ঘিরে বাঁশখালী-চট্টগ্রাম সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় গতকাল শনিবারও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ৬৫ টাকার বাসভাড়া ২৫০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন বাসশ্রমিকরা। জানা গেছে, বাঁশখালীর কোকদণ্ডী ঋষিধামে তিন বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা। এবার বসেছে ১৯তম আসর। এতে দেশ-বিদেশের সাধু, সন্ন্যাসী, বৈঞ্চব, সঙ্গীতশিল্পী ও হাজার হাজার তীর্থযাত্রী যোগ দিয়েছেন।

বাঁশখালী ঋষিধামের মোহন্ত মহারাজ সুদর্শনানন্দপুরী মহারাজ, মেলা কমিটির আহ্বায়ক ও রাউজান পৌরসভার মেয়র দেবাশীষ পালিত এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, মেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। তবে ব্যাপক তীর্থযাত্রীর উপস্থিতির কারণে মূল মন্দিরের উদ্বোধন এবং ৯ টন ওজনের স্বামীজির শ্বেতপাথরের মূর্তি স্থাপনের কাজ শেষ করা যায়নি। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে তা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে স্থাপন করা হবে।

তাঁরা জানান, মেলায় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা উল্লেখ করার মতো। আট দিনে শ্রী মদ্ভগবদগীতা পাঠ, ঋষিধ্বজা উত্তোলন, বেদমন্ত্র পাঠ, ১০৮ দীপমণ্ডিত মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, গুরু মহারাজের পূজা, দশমহাবিদ্যা পূজা, আন্তর্জাতিক ঋষি সম্মেলন, সনাতন ধর্ম সম্মেলন, সঙ্গীতাঞ্জলি, অতিথিদের বরণসভা, মহাপ্রসাদ বিতরণ, দেশি-বিদেশি ধর্মীয় শিল্পীদের নৃত্য ও গান, নাটক, গীতালোখ্যসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।

ঋষিধাম পরিচালনা কমিটি ও শ্রীগুরু সংঘের সভাপতি লায়ন প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ এবং কুম্ভমেলা পরিচালনা কমিটির অর্থসচিব তড়িৎ গুহ বলেন, আমাদের আশা ছিল এবার ২০ লাখ তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে। কিন্তু তা ২২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় মেলায় কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। তবে যানজটে তীর্থযাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তরী ও বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কুম্ভমেলা আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি মেলার প্রথমদিন আট কিলোমিটার দীর্ঘ মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ভারতের প্রখ্যাত কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি। এছাড়া প্রতিদিন চলে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ঋষিধামের ৪৪ একর জমি ছাড়াও আশপাশের ৮০ একর এলাকাজুড়ে বসে মেলা। লাখো দর্শনার্থীর উপস্থিতি কুম্ভমেলাকে করে তুলে আরো প্রাণবন্ত।

মেলা সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও মেলা কমিটির সদস্যদের উদ্যোগে ২৬টি উপকমিটির মাধ্যমে ১ হাজার ৭০০ জন কর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্বে আছেন। রয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। সবই সতর্কতার সাথে মনিটরিং করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন শতাধিক সদস্য। অসুস্থ তীর্থযাত্রীর জন্য আছে বিনামূল্যে ওষুধ এবং মহাপ্রসাদের আয়োজন। আরো আছে দূর থেকে আসা প্রত্যেকের জন্য তাঁবু টাঙিয়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা।

বিভিন্ন দিনের অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা প্রমুখ।


মন্তব্য