kalerkantho


নির্ধারিত সময়ে রেকর্ড তিনগুণ পণ্য খালাস

আসিফ সিদ্দিকী   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নির্ধারিত সময়ে রেকর্ড তিনগুণ  পণ্য খালাস

চট্টগ্রাম বন্দরে নির্ধারিত সময়ে রেকর্ড তিনগুণ পণ্য খালাস হয়েছে। গত শুক্রবার একটি জাহাজ থেকে ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার টন পণ্য নামানো হয়েছে। সাধারণত ওই সময়ে চার থেকে ছয় হাজার টন পণ্য খালাস হতো এই বন্দরে।

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ওঠানামায় নিত্যনতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলেও এতদিন খোলা পণ্য জাহাজ থেকে নামানোর রেকর্ড ছিল না। শুক্রবার ১২ হাজার টন পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে খোলা পণ্য নামানোতেও নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো। কম সময়ে বেশি পণ্য খালাস হলে আমদানিকারকের খরচ কমে যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) গোলাম ছারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় চার হাজার টন খোলা পণ্য জাহাজ থেকে নামাতে পারলে আমরা আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরে নিই। এবার এর তিনগুণ পণ্য নামিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লো বন্দর কর্তৃপক্ষ। ’

এক্ষেত্রে বন্দরের ভূমিকা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা পণ্য নামানোর দায়িত্ব পালনকারী বার্থ অপারেটর, শিপিং এজেন্ট, ট্রাকচালক, শ্রমিক ও আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফের সাথে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে থাকি। সঠিক সমন্বয় এবং অবশ্যই বার্থ অপারেটর পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থার বিশেষ ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ’

জানা গেছে, ৫৫ হাজার টন হট ব্রিকেট আয়রন (রড তৈরির কাঁচামাল) নিয়ে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘ক্যারাগাছ’ গত ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে।

সেখানে ২৮ হাজার ৫০০ টন পণ্য ছোট জাহাজে নামিয়ে বাকিগুলো নিয়ে জাহাজটি ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বন্দরের আট নম্বর জেটিতে ভিড়ে। এর পর শুক্রবার সকাল আটটা থেকে গতকাল শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ১২ হাজার ৫০ টন পণ্য নামানো সম্ভব হয়।

বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠান পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থার পরিচালক রফিকুল আনোয়ার বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরের পরিবহন বিভাগের আন্তরিকতা এবং আমদানিকারক আবুল খায়ের গ্রুপের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার কারণে আমরা ওই কাজ করতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্য দিয়ে বন্দরের গতিশীলতা নতুন মাত্রা পেল। বার্থ অপারেটররাও দক্ষ হয়ে ওঠছে। ’ তিনি বলেন, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের দুই ঘণ্টা বিরতি না থাকলে একইসাথে জাহাজটির পাশে থাকা ছোট জাহাজ থেকে পণ্য নামাতে না হলে আরো বেশি পণ্য নামানো যেত। ’

পণ্যের আমদানিকারক আবুল খায়ের গ্রুপের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বার্থ অপারেটর পঞ্চরাগ অবশ্যই ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ’

তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে জাহাজ বন্দর ছাড়তে পারলে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে। পণ্যের উত্পাদন খরচও কমবে। একইসাথে বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম বাড়বে।


মন্তব্য