kalerkantho


পাঁচ শতাধিক কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ

সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার রাবারড্যাম অচল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার রাবারড্যাম অচল

উখিয়ার পশ্চিম ডিগলিয়া রাবারড্যাম। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাবারড্যাম নির্মাণ করা হয়েছিল দুই হাজার একর জমিতে চাষাবাদ করার লক্ষ্য নিয়ে। সেই রাবারড্যামে এখন ২০০ একর জমিতেও চাষাবাদ সম্ভব হচ্ছে না।

প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাবার ড্যামটি গত দুই বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পশ্চিম ডিগলিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আওতায় নির্মাণ করা হয় এটি।

স্থানীয় কৃষক ও সেচ সমিতির লোকজনের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের গাফিলতি এবং কাজে ফাঁকিবাজির কারণে রাবার ড্যামটি পাঁচ শতাধিক কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।     

জানা গেছে, এলজিইডির ক্ষুদ্র সেচ ও ভূ-উপরিস্থিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় এডিবি, ইফাদ ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে উখিয়ায় ওই রাবার ড্যাম নির্মাণ শুরু হয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে। পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ব্যয় বরাদ্দে চট্টগ্রামের মেসার্স আবুল বাশার রুদ্র ২০১৫ সালের মে মাসে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। এর পর গত বছর এটি পরীক্ষামূলক চালু করা হয়। এ সময় ড্যামের রাবারের ব্যাগটি নির্দিষ্ট পরিমাপের প্রায় দুই ফুট কম পাম্পিং করা হয়। তদুপরি সেচ মৌসুমের আগে রাবারের ব্যাগ স্থাপন করা হয়নি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে এডিবি, ইফাদ ও এলজিইডির প্রতিনিধিদল এটি পরিদর্শনে আসলে পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির পক্ষ থেকে রাবারের ড্যাম সিডিউল অনুযায়ী সাড়ে তিন মিটার বা ১২ ফুট উচ্চতার পুরোটা না ফুলালে রাবার ড্যামের সুবিধা কৃষক ভোগ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছিল।

সেচ সমিতির সভাপতি ডা. আব্দুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহে আলম জানান, স্থানীয় এলজিইডির কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে সিডিউল অনুযায়ী সঠিক উচ্চতায় রাবার ড্যাম স্থাপনের জন্য প্রতিনিধিদলের নির্দেশ গত দুই বছরেও কার্যকর হয়নি। ফলে চলতি বছরও বোরো চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষক জানান, খালপাড় থেকে প্রায় আড়াই ফুট নিচে ড্যামের রাবারের ব্যাগ বসানো হয়েছে। সেটি সিডিউলে বর্ণিত পরিমাপে প্রায় এক ফুট নিচে বলে পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন।

কৃষক তৈয়ব সিকদারসহ অনেকে জানান, খালপাড় পর্যন্ত যদি রাবারের ব্যাগ ফুলিয়ে বসানো হত তাহলে বাঁধে সংরক্ষিত পানি ওভার ফ্লো হয়ে খালের উভয় পাড়ের জমিতে বয়ে যেত। এতে মেশিন বা পাম্পের মাধ্যমে অনেক দিন জমিতে সেচ দিতে হত না। কিন্তু বর্তমানে যে অবস্থা তাতে শুরু থেকে পাম্প বা মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে কৃষকের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রায় আবাদি জমি খিল পড়ে আছে।

পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তারা জানান, চাষাবাদের মাঝপথে পানি সংকট দেখা দেওয়ায় এ বছরও কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ওই রাবার ড্যামের আওতায় ৮০০ হেক্টর বা দুই হাজার একর জমি বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলে ঠিকাদার ও তদারকি কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনা ও অবহেলার কারণে পুরো প্রকল্পে ২০০ একর জমিতেও বোরো চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এলজিইডির উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহমুদ বলেন, ‘ঠিকাদার ও পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির মাঝে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সমিতির লোকজনের দাবি মতে রাবার ব্যাগ যথাযথভাবে ফুলানো না হওয়ায় সেটি তাঁরা গ্রহণ করছেন না। ’ তবে কারিগরি ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই যৌথভাবে সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।


মন্তব্য