kalerkantho


সীমান্ত এলাকার পরিবর্তে এবার সদরের কাছে পপিচাষ

মনু ইসলাম, বান্দরবান   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সীমান্ত এলাকার পরিবর্তে এবার সদরের কাছে পপিচাষ

প্রতিবছর নিরাপত্তা বাহিনীর চিরুনি অভিযানের পরও বান্দরবান জেলার থানচি ও রুমাসহ সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকাগুলোতে নিষিদ্ধ পপিচাষ বন্ধ হচ্ছে না। সম্প্রতি পরিচালিত সেনাবাহিনীর বিশেষ এক অভিযানে রুমা উপজেলা সদরের বাচা ডেউপাড়া সংলগ্ন এলাকায় পপি ক্ষেতের সন্ধান পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

অভিযানে পপিচাষের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী ক্য অং প্রু মারমা এবং উ থোয়াই চিং মারমা নামে স্থানীয় দুজন জুমচাষিকে আটক করে। অভিযান চালিয়ে সেনাসদস্যরা আধা একর জমিতে চাষ করা পপিক্ষেতও ধ্বংস করেন।

বান্দরবান সেনা রিজিয়নের মুখপাত্র মেজর তৌহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এর আগে বাংলাদেশ-সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে পপিচাষ হলেও এবারই প্রথম উপজেলা সদরের কাছাকাছি এলাকায় পপিচাষের সন্ধান পাওয়া গেছে। ’ তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, প্রতিবছর পপিচাষ মৌসুমে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেট ও পপিচাষের মহাজনরা কৌশল পাল্টে ফেলেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকার পরিবর্তে কিছুটা ভেতরের এলাকায় পপি উত্পাদনে তারা পুঁজি বিনিয়োগ করছে। কয়েক গুণ লাভের লোভ দেখিয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা খণ্ড খণ্ড জমিতে পপিচাষ করাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালের দিকে মিয়ানমারের সরকারবিরোধী সশস্ত্র গেরিলা গ্রুপগুলো পপিচাষের সাথে জড়িয়ে পড়ে। তারা অস্ত্রের মুখে সীমান্তে বসবাসকারী পাহাড়ি জুমচাষিদের ধান, তিল, কার্পাস চাষের পরিবর্তে পপিচাষে বাধ্য করে।

বিষয়টি টের পেয়ে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সহায়তায়  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পপিচাষবিরোধী প্রথম অভিযান চালায়। এতে বেশ সাফল্য আসায় প্রতিবছর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র বলেছে, সেনাবাহিনীর পপিচাষবিরোধী ধারাবাহিক এই অভিযানের কারণে পপিচাষ কিছুটা কমে আসলেও গত দুই বছর ধরে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের আড়াল করতে সন্দেহের বাইরের জুমচাষের জমিতে স্থানীয়দের মাধ্যমে পপিচাষ করাচ্ছে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র। ফলে অভিযানে স্থানীয়রা আটক হলেও মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।


মন্তব্য