kalerkantho

আঁধার ছেড়ে আলোয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আঁধার ছেড়ে আলোয়

মাদককারবার ছেড়ে মুদি দোকান খুলেছেন ইলিয়াছ। ছবি : কালের কণ্ঠ

অন্ধকার জগত ছেড়ে আলোর পথে যাত্রা করলেন যুবক মোহাম্মদ ইলিয়াছ। কিছুদিন আগেও তিনি ছিলেন এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। এখন বাড়ির পাশে মুদির দোকান খুলে বসেছেন। ইলিয়াছ বলেন, ‘আর নয় সর্বনাশা মাদক। হালাল পথে হালাল রুজি দিয়েই সংসার চালাতে চাই। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। ’

ইলিয়াছ পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা। সমপ্রতি পুলিশের কাছে মাদককারবার ছেড়ে আলোর পথে ফেরার অঙ্গীকারনামা দেন ইলিয়াছ। অবশেষে গত শুক্রবার বিকেলে হাইদগাঁও-কেলিশহর আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় তাঁর মুদির দোকানটি উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় হাইদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইউনুচ মিয়া ও কেলিশহর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সরোজ সেন নান্টু কালের কণ্ঠকে জানান, মাদক সবাইকে অন্ধকার-অপরাধ জগতের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক কারবারিতে যারা জড়িত তাদের জীবন যেমন সংকটাপন্ন তেমনি পরিবারের সদস্যদের অবস্থাও হয় নাজুক।

তারা পুলিশের ভয়ে যেমন বাড়িতে থাকতে পারে না, তেমনি পরিবারের সদস্যরাও সামাজিকভাবে প্রতিনিয়ত নাজেহালের শিকার হয়। তাই এ পেশা থেকে ফিরতে নিজের ইচ্ছাশক্তি এবং সামাজিক ও প্রশাসানিক আস্থা অর্জন খুবই জরুরি।

ওই দুই ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, এলাকার অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে যাঁরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছেন, তাঁদেরকে সমাবেশের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে ইলিয়াছ মুদির দোকানের মাধ্যমে ব্যবসা করে সুন্দর জীবন সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। যা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা তাঁর সাফল্য কামনা করি।

উত্তর হাইদগাঁও শালিকপাড়া অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির নেতারা বলেন, আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইলিয়াছ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। তাঁর এমন পরিবর্তনে এলাকার মানুষ গর্বিত। এলাকার সব মহল মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। কেউ মাদক কারবারে জড়িত হলে কোনো অবস্থাতে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে প্রশাসনের কাছে তুলে দেব।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘ভালোভাবে বাঁচতে হবে এতোদিন সেটিই ছিল আমার কাছে অজানা। বুঝতে না পেরে জীবনের অর্ধেক সময় ছিলাম অন্ধকারে। মাদক সেবন ও বিক্রি কেউ ভালো চোখে দেখেন না। পুলিশ-র‌্যাবের ভয়ে সব সময় থাকতো হতো আতঙ্কে। ’

‘টাকা কামাই করেছি ঠিকই, কিন্তু মনে শান্তি ছিল না। জীবনকে সুন্দর ও শান্তিতে রাখতে অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোর পথে আসার অঙ্গীকার করেছি। ’-বলেন ইলিয়াছ।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নেয়ামত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু অপরাধীকে ভালো পথে আনতে পারলে তাঁদের দেখাদেখি অন্যরাও আলোর পথে আসবে। এই ধরনের চিন্তাভাবনা থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে সব সময় যাঁরা আত্মশুদ্ধি ঘটাতে চান তাঁদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়। ’

ওসি জানান, পটিয়ার হাইদগাঁওয়ে যাঁরা আলোর পথে ফিরেছেন তাঁরা মাদক ছেড়ে বিভিন্ন

ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিতে যুক্ত হয়েছেন। ইলিয়াছ যে ব্যবসা শুরু করেছেন তা সত্যিই ভালো উদ্যোগ।

ওসি আরো বলেন, ‘পটিয়ায় মাদক জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলার যেখানেই মাদক ও অপরাধ সেখানেই পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। যা অব্যাহত থাকবে। ’ তবে যাঁরা অপরাধ জগত ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তাঁদেরকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান ওসি শেখ নেয়ামত উল্লাহ।


মন্তব্য