kalerkantho


মধ্যরাতে পুলিশের হয়রানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নগরীতে মধ্যরাতে পুলিশের হয়রানির ঘটনা ঘটছেই। গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা স্বাভাবিক কার্যক্রম হলেও পুলিশ তা নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের অযথা হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার রাতেও চট্টগ্রামের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলিশের হয়রানির শিকার হন।

হয়রানির শিকার ওই সাংবাদিক জানান, তিনি রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পলোগ্রাউন্ড এলাকায় তাঁকে বহন করা অটোরিকশাটি থামিয়ে তাঁকে তল্লাশি করেন সহকারী উপ-পরিদর্শক সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ। তাঁরা কিছু না পেয়ে তিনি কোথায় যাচ্ছেন, বাসা কোথায় ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরও পুলিশ সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে অপ্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ে জেরা শুরু করেন। এ সময় তিনি নিজের পরিচয় দেওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর পরিচয়পত্র দেখতে চান। কিন্তু এই সময় ওই সাংবাদিকের সঙ্গে পরিচয়পত্র ছিল না। ফলে পুলিশ কর্মকর্তারা ওই সাংবাদিককে ভুয়া বলে অভিযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত ওই সাংবাদিক অটোরিকশা চালকের পরামর্শে ১০০ টাকা উেকাচ দেন।

১০০ টাকায় পুলিশ নাখোশ হওয়ায় পরে আরও ১০০ টাকা উেকাচ দিলে পুলিশ তাঁকে বাসায় যাওয়ার সুযোগ দেয়।

হয়রানির শিকার ওই সাংবাদিক বলেন, ‘মাত্র ২০০ টাকার জন্য পুলিশ এ ধরনের আচরণ করবে বুঝতেই পারিনি। তাঁরা আমার কোনো কথা শুনতেও চাইল না। বরং নানা অজুহাতে আমাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করল। শেষে অটোরিকশা চালক যদি আমাকে উেকাচ দেওয়ার পরামর্শ না দিতেন, তাহলে পুলিশ হয়তো আমাকে আরও বেশি হেনস্তা করতো। ’

ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানানো হয় কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দিনকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ওই টহল টিমকে থানায় ডেকে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে তল্লাশির কথা স্বীকার করেছে। তবে ২০০ টাকা উেকাচ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘সদ্য পদোন্নতি পাওয়া সহকারী উপ-পরিদর্শক সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। ’

প্রসঙ্গত, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশির নামে পুলিশের হয়রানির বিষয়ে নগরবাসী অভিযোগ করে থাকেন প্রায়ই। ব্যাগ তল্লাশির নামে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ, মোড়কজাত কিছু পাওয়া গেলে তা ছিঁড়ে ফেলা এবং অশোভন আচরণের অভিযোগও দীর্ঘদিনের।


মন্তব্য